গৃহহীন জাভেদ আখতার যেভাবে ২০৬ কোটির সম্পত্তির মালিক হলেন
বলিউডের খ্যাতিমান গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার আজ কিংবদন্তির আসনে। তবে এই অবস্থানে পৌঁছানোর পথটা মোটেও সহজ ছিল না। এক সময় মুম্বাই শহরে তার মাথা গোঁজার জায়গা পর্যন্ত ছিল না। সেই গৃহহীন জীবন পেরিয়েই আজ তিনি প্রায় ২০৬ কোটি রুপির সম্পত্তির মালিক।
১৯৬৪ সালের ৪ অক্টোবর কাজের সন্ধানে মুম্বাইয়ে পা রাখেন জাভেদ আখতার। তখন তার হাতে না ছিল স্থায়ী কাজ, না ছিল টাকা পয়সা কিংবা থাকার মতো ঠিকানা। একমাত্র ভরসা ছিল নিজের কলমের ওপর অটুট বিশ্বাস। সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা তিনি পরে নিজের একাধিক কবিতায় তুলে ধরেছেন।
দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৭০ সালে মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকায় প্রথমবারের মতো স্থায়ী ঠিকানা জোটে তার। সে সময় সমুদ্রমুখী ওই বাংলোর দাম ছিল প্রায় ৫ লাখ টাকা, যা বর্তমানে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে।
সত্তরের দশক থেকে আশির দশকজুড়ে সেলিম খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে বলিউডের ইতিহাস গড়েন জাভেদ আখতার। ‘সীতা অউর গীতা’, ‘শোলে’, ‘দিওয়ার’, ‘ডন’, ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’-এমন বহু কালজয়ী সিনেমার চিত্রনাট্য তাদের কলমেই লেখা। ১৯৮২ সালে আলাদা হয়ে গেলেও দুজনেই নিজেদের মতো করে সফলতা ধরে রাখেন।
ক্যারিয়ারের শুরুতে মাত্র ৫০ রুপি পারিশ্রমিকে চিত্রনাট্য লেখার কাজ শুরু করেছিলেন জাভেদ আখতার। ‘শোলে’ সিনেমার সাফল্যের পর থেকেই সেলিম-জাভেদের চাহিদা বেড়ে যায়। নব্বইয়ের দশকে তিনি গান পিছু প্রায় ১৫ লাখ রুপি পারিশ্রমিক নিতেন, যা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ২৫ লাখ টাকা।
চিত্রনাট্য ও গানের জন্য ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ‘সাজ’, ‘বর্ডার’ ও ‘গডমাদার’ সিনেমায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান জাভেদ আখতার। পাশাপাশি তিনি পেয়েছেন দেশের মর্যাদাপূর্ণ ‘পদ্মশ্রী’ ও ‘পদ্মভূষণ’ সম্মাননা।
জীবনের একটি বড় সময় বান্দ্রার বাংলোতে কাটানোর পর ২০২১ সালে জুহু এলাকায় প্রায় ৭ কোটি রুপি দিয়ে ১ হাজার ১০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনেন তিনি। বর্তমানে সেখানেই থাকেন এই কিংবদন্তি।
প্রায় ছয় দশকের কর্মজীবনে জাভেদ আখতার গড়ে তুলেছেন আনুমানিক ২০৬ কোটি রুপির সম্পত্তি। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ তার নিজের এবং বাকি ২০ শতাংশের অধিকার রয়েছে তার স্ত্রী শাবানা আজ়মির।
আরও পড়ুন:
প্রথম সপ্তাহেই মুখ থুবড়ে পড়েছে ‘দ্য রাজাসাব’
বীরের রহস্যময় বার্তা, তারার আচরণে বিচ্ছেদের আভাস
অতীতের সংগ্রামের কথা মনে পড়লে আজও আবেগতাড়িত হন জাভেদ আখতার। যদিও বর্তমানে ছবির কাজ অনেকটাই কমিয়েছেন তিনি। তবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থেকে নিজের মতামত ও চিন্তাভাবনা প্রকাশ করে চলেছেন এই বর্ষীয়ান গীতিকার-চিত্রনাট্যকার।
এমএমএফ/জেআইএম