বাড়ি যাচ্ছেন না, ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’র মিলন মাহমুদ
ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার গান ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার’ আগে পথে-ঘাটে, টিভি-মাইকে বাজতো। এখন বাজে মানুষের মনের ভেতর। বাড়ি ফেরার আকুতি ভরা এই গান যেন ঘর ফিরতি মানুষের আত্মার সংগীত হয়ে উঠেছে গত দেড় যুগে। গানটি গেয়েছিলেন শিল্পী মিলন মাহমুদ।
মানুষের হৃদয়ে মিলনের কণ্ঠ বাজে, ভাবতে কেমন লাগে? ২০০৯ সালে গানটি প্রকাশের পর থেকে এ প্রশ্নের উত্তর বহুবার দিতে হয়েছে শিল্পীকে। এ বছর ঈদুল ফিতরের আগেও জাগো নিউজকে তিনি বললেন, “স্বপ্ন যাবে বাড়ি” গানটা মানুষের মনে একটা যুগান্তকারী আপিল তৈরি করেছে, এটা আমার জন্য সুখের ব্যাপার। কোথায় এটা যখন বাজতে শোনা আমার জন্য একটা ভালো লাগার ব্যাপার, অসাধারণ এক অনুভূতি।
মূলত গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনের জন্য ২০০৯ সালে বানানো হয়েছিল গানটি। টেলিকম প্রতিষ্ঠানটির তখনকার কর্মকর্তা আনিকা মেহজাবীনের লেখা গানটির সুর করেছিলেন হাবিব ওয়াহিদ। বিজ্ঞাপনচিত্রটি টেলিভিশনে প্রচারের পর সাড়া পড়ে যায়। বলা যায়, সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেয় গানটি।
মিলন মাহমুদ, হাবিবের সঙ্গে। ছবি: ফেসবুক থেকে
শুরুতে একটা ছোট্ট অংশ, পরে পূর্ণাঙ্গ গান রিলিজ হয়। ২০১৩ সালে মিলন মাহমুদের ‘গোপনে’নামের অ্যালবামে রাখা হয় গানটি। কীভাবে তৈরি হলো এ গান, সে গল্প অনেকবার বলা হয়েছে। সুন্দর গল্প বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া যেতেই পারে।
২০০৯ সালে হাবিব ওয়াহিদের ফোন। ফোন পেয়ে মিলন মাহমুদ চলে যান হাবিবের ধানমন্ডির বাসায়। তার হোম স্টুডিওতে ঢুকে দেখলেন প্রস্তুত ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’ গানের কবিতা। ততক্ষণে সুর করা হয়ে গেছে। মিলন মাহমুদ বলছিলেন, ‘ও নিজেই গাইছিল। আমি তখন বললাম, তোমার কণ্ঠেই তো ভালো লাগছে। প্রত্যুত্তরে হাবিব বলেছিলেন, “আপনি ভয়েজ দিয়েই দেখেন কী দাঁড়ায়।” ভয়েজ দিলাম। দেখলাম আমার কণ্ঠেও সুন্দর শোনাচ্ছে।’
জনপ্রিয় এ গানের শিল্পী মিলন মাহমুদের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটে। তবে তিনি এই ঈদুল ফিতরে বাড়ি যাবেন না। কারণ স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে তিনি ঈদ করবেন ঢাকায়। ঈদের পরদিন বেড়াতে যাবেন ঢাকার বাইরে। এই মুহূর্তে তিনি ব্র্যান্ড অ্যামব্যাসেডর হিসেবে যুক্ত আছেন একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানে। গান কি ছেড়ে দিয়েছেন শিল্পী? জাগো নিউজকে সেই অভিমানের কথার ভাগও দিলেন মিলন মাহমুদ।

‘নতুন কিছু গান করেছি, কিন্তু লেবেল পাচ্ছি না। লেবেলগুলো যেমন চায়, আমি তেমন গান করি না। ওদের ডিমান্ড অনুযায়ী করতে পারি না, আগ্রহ পাই না। ওরা আগে আমাদের গান নেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকতো। এখন মার্কেটিংয়ে এগিয়ে থাকা কনটেন্ট যারা বানায়, তাদের গান নেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকে’, মৃদ্যু আক্ষেপ নিয়ে বলেন মিলন মাহমুদ।
সম্প্রতি এক আড্ডায় জড়ো হয়েছিলেন ঢাকার গানের মানুষেরা। বেইলি রোডের থার্টি থ্রি রেস্তোরাঁয় ইফতার ও আড্ডা আবারও প্রাণের সেই আনন্দ ফিরিয়ে দিয়েছে মিলন মাহমুদকে। নিয়মিত কেন হন না? জানতে চাইলে বলেন, ‘কেউ যদি আড্ডার সুযোগ তৈরি করে, আমি যাই।’

নতুন গান করছেন কি না জানতে চাইলে মিলন মাহমুদ জাগো নিউজকে বলেন, “মায়াবী চোখ’ শিরোনামে নামে একটা গান করেছি, আমার লেখা ও সুর করা। মিক্স-মাস্টারিংয়ের কাজ বাকি, শেষ হলেই প্রকাশের চেষ্টা করবো। কিছু ফোক গান নিয়েও কাজ করছি।’
নিজের প্রজন্মের প্রায় সব শিল্পী এখন ডিজিটাল দুনিয়ায় সরব। ইউটিউবসহ নানান স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে তাদের গান পাওয়া যায়। মিলন মাহমুদ সেখানে নেই, কেন? তিনি বলেন, ‘এখনও প্রস্তুতি নিয়ে উঠতে পারিনি। আমি একটু নন টেকনিক্যাল মানুষ। এসব কাজে এক্সপার্ট নই। একটু নিভৃতচারীও বটে। আমি আসলে ম্যানুয়ালি কাজ করা মানুষ, পর্যাপ্ত যান্ত্রিক নই। নিজের গানগুলো ফ্রন্টলাইনে আনতে মরিয়া নই। প্রস্তুতিও তেমন নেই। তবে কেউ যদি হেল্প করে আমি ডিজিটালে আসতে চাই।’
আরএমডি