সংগীত অঙ্গনের বৈষম্য নিয়ে মুখ খুললেন শ্রেয়া

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন ডেস্ক বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১২ এএম, ০৯ মার্চ ২০২৬
শ্রেয়া ঘোষাল। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় সংগীত জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র শ্রেয়া ঘোষাল। তার কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ কোটি কোটি শ্রোতা। তবে সাফল্যের শিখরে থেকেও এবার সংগীত অঙ্গনে বিদ্যমান লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে সরব হলেন এই জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী।

সম্প্রতি মুম্বাইয়ের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতের সংগীত শিল্পে পুরুষদের একাধিপত্য এবং নারী শিল্পীদের অবহেলার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। শ্রেয়ার মতে, ভারতীয় সমাজের মতো সংগীত অঙ্গনেও এখনো পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা গভীরভাবে প্রভাব ফেলছে।

শ্রেয়া বলেন, বর্তমানে জনপ্রিয় সংগীত তালিকা বা চার্টগুলোর দিকে তাকালে সহজেই বোঝা যায় সেখানে মূলত পুরুষ শিল্পীদেরই প্রাধান্য। নারী শিল্পীদের গাওয়া গান খুব কমই জায়গা করে নিতে পারে।

এই গায়িকার ভাষায়, “ভারত এখনও কিছুটা পুরুষতান্ত্রিক। সংগীত জগতেও এর প্রতিফলন স্পষ্ট। সংগীতের তালিকাগুলো দেখলেই বোঝা যায় সেখানে পুরুষদের আধিপত্য কতটা বেশি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাকে দেখান তো চার্টে মেয়েদের গাওয়া কটা গান আছে! টপ ১০ তো দূরের কথা, আপনি যদি সেরা ৫০টি গানের তালিকাও দেখেন, সেখানে বড়জোর ছয়-সাতটি গান নারী শিল্পীদের। বিষয়টা এখন এতটাই একপেশে হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দেশে আগে কিন্তু এমনটা ছিল না।”

সংগীত অঙ্গনের বৈষম্য নিয়ে মুখ খুললেন শ্রেয়া

অতীতের উদাহরণ টেনে শ্রেয়া বলেন, একসময় নারী কণ্ঠশিল্পীরাই সংগীত জগতে দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করেছেন। বিশেষ করে কিংবদন্তি শিল্পী লতা মঙ্গেশকর এবং আশা ভোসলের সময়ের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

শ্রেয়ার মতে, সেই সময়ে তারা সমসাময়িক পুরুষ শিল্পীদের তুলনায় অনেক বড় তারকা ছিলেন এবং বছরে অসংখ্য গান গেয়েছেন। কিন্তু গত এক দশকে সেই চিত্র বদলে গেছে।

তিনি বলেন, “আমার মনে হয় গত ১০ বছর ধরে আমরা যেন এক ধরনের বিভ্রান্তির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তবে ফিউশন এবং নতুন ধরনের পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে আমরা আবার সেই ভারসাম্যে ফিরে আসতে পারব বলে আশা করি।”

আরও পড়ুন:
প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে ‘ধুরন্ধর ২’
বলিউডের অন্দরমহল নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য গোবিন্দর

গায়িকার এই মন্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নেটিজেনদের আলোচনায় এখন সংগীত অঙ্গনে লিঙ্গবৈষম্যের বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।

এমএমএফ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।