জুলাইয়ের সিনেমা প্রকল্প

সরকার বাকি স্ক্রিপ্ট থেকে ছবি বানাতে পারে: ফারুকী

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন ডেস্ক বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৩ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম, অনম বিশ্বাস, শঙ্খ দাশগুপ্ত, তাসমিয়াহ আফরিন মৌ, সুমন রহমান, ফারুকী, হুমায়রা বিলকিস প্রমুখ

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর শুরু হয় জুলাই আন্দোলন নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ কর্মকাণ্ড। সেসময় সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা চলচ্চিত্রকার মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর তত্বাবধানে বেশ কিছু সিনেমা বানানোর কথা বলা হলেও সেগুলো শেষ করা হয়নি। সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা চলচ্চিত্রকার মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর আহ্বান, বর্তমান সরকার চাইলে জুলাইয়ে শেষ না হওয়া সেসব সিনেমা বানিয়ে ফেলতে পারে।  

আজ (২৭ ফেব্রুয়ারি) শুক্রবার দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত হয় প্রতিবেদন ‘আট সিনেমার পাঁচটিই হয়নি’। রিমেম্বারিং মনসুন রেভোল্যুশন প্রকল্পের ওই সিনেমাগুলো কেন হয়নি তার ফিরিস্তি সন্ধ্যায় ফেসবুকে তুলে ধরেছেন ফারুকী। তিনি লিখেছেন, ‘একটি পত্রিকায় আজকে একটা লেখা ছাপা হয়েছে, যার সারমর্ম হলো, আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ১৬ বছরের দুঃশাসন নিয়ে ৮টা ছবি করার কথা বলেছিলাম, তার মধ্যে ৫টাই হয় নাই। কথা সত‍্য। তবে আরো সত‍্য হচ্ছে, ৫টা হয় নাই, ২১টা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
জুলাই নিয়ে সিনেমাগুলোর কী হবে
আবরার ফাহাদের জন্মদিনে ভোট, যে বার্তা দিলেন ফারুকী
আওয়ামী লীগকে কেন দরকার ব্যাখ্যা করলেন ফারুকী

ওই প্রকল্পের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে তিনি লিখেছেন, ‘কেনো মুনসুন রেভুলুশন ফিল্ম প্রজেক্টটা নেয়া হয়েছিলো। দুই উদ্দেশ্য থেকে এটি করা হয়েছিল। প্রথম উদ্দেশ্য ছিলো খ‍্যাতনামা তরুণ পরিচালকদের দিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে ফিল্মমেকিং ওয়ার্কশপ করা। আট বিভাগেই এই ওয়ার্কশপ সাকসেসফুলি শেষ হয়েছে। এবং ওইসব শহরে বিপুল সাড়া পড়ে তরুণদের মধ্যে। আমি এই জন‍্য আটজন পরিচালকের প্রতিই কৃতজ্ঞতা জানাই।’

‘দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ১৬ বছরের দুঃশাসনের গল্প আমাদের কালেকটিভ মেমোরির পার্ট হিসাবে সিনেমায় খোদাই করে রাখা। বিকজ কালচার ইজ নাথিং বাট আওয়ার কালেকটিভ মেমোরি। এই উদ্দেশ্যে আটটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। এর মাঝে দুইটি ডকুমেন্টারি এবং একটি কাহিনিচিত্রের কাজ শেষ হয়েছে। এগুলো প্রিভিউ শেষে রিলিজ করা হবে। বাকি পাঁচ চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট রিভিউ কমিটির কাছে জমা পড়েছে এবং কমিটি সেটা নিয়ে মন্ত্রণালয়ে মতামত দিয়েছে।’

সরকার বাকি স্ক্রিপ্ট থেকে ছবি বানাতে পারে: ফারুকী৫৬তম টেম্পেয়ার চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬-এর মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছিল ‍জুলাই আন্দোলনের পটভূমিতে হেমন্ত সাদীক নির্মিত ছবি ‘স্কারলেট ইকোস’ বা ‘রক্তিম’

সিনেমা নির্মাণ থেমে যাওয়ার কারণ জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ওই সময় একটা ঘটনা ঘটে। জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয় রাষ্ট্রীয়ভাবে। তখন আমাদের ওপর দায়িত্ব পড়ে ১৬ বছরের দুঃশাসন এবং জুলাইয়ের গৌরবগাঁথা নিয়ে ডকুমেন্টারি নির্মাণের। আমরা ২১টা ডকুমেন্টারি বানাই। যার বেশিরভাগই আপনাদের দেখা। “পিলখানা: ৩৬ আওয়ার অব বিট্রেয়াল”, “আয়নাঘর ফাইলস”, “ক্লেপ্টোক্রেসি”, “জুলাই বিষাদ সিন্ধু সিরিজ”, “ইউ ফেইলড টু কিল আবরার ফাহাদ”, “ট্রায়াল অব জুলাই ম‍্যাসাকার” ইত্যাদি। সেগুলোতে এই আটজন ফিল্মমেকারের অনেকেই যুক্ত হন। আবার আটজনের বাইরে থেকেও আরো অনেকে যুক্ত হন। ওই ডকুমেন্টারিগুলো জুলাই মাস জুড়ে অনলাইনে মুক্তি দেওয়া হয়। পাশাপাশি সারা দেশেও ফিজিক্যাল স্ক্রিনিংয়ের আয়োজন করা হয়। ওই ডকুমেন্টারিগুলো ব্যাপক সাড়া ফেলে। আমাদের এই কন্টেন্টগুলো শুধু প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজেই ভিউ হয় ১০০ মিলিয়নের ওপর।’

তিনি লিখেছেন, ‘ওই সময় আমাদের উপলব্ধি হয় ঘটনার খুব কাছে থাকার কারণে ফিকশনের স্ক্রিপ্ট ডকুমেন্টারিগুলোর মতো আমাদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিই আটটি ছবি নির্মাণের ঘোষণা হয়েছে বলেই যে পুরোপুরি কনভিন্সড না হলেও আমরা টাকা খরচ করে ছবিগুলো বানিয়ে ফেলবো এটা ঠিক হবে না। তখন আমরা রিভিউ কমিটিকে স্ক্রিপ্টগুলো নিয়ে আরো কাজ করতে বলি। এর মধ্যে আমাদের মেয়াদও শেষ হয়ে আসে। নতুন সরকার মনে করলে বাকী স্ক্রিপ্টগুলো থেকে ছবি বানাতে পারে।’

ওই আট চলচ্চিত্রকার হলেন অনম বিশ্বাস, হুমায়রা বিলকিস, নুহাশ হুমায়ূন, শঙ্খ দাশগুপ্ত, শাহীন দিল রিয়াজ, রবিউল আলম রবি, তাসমিয়াহ আফরিন মৌ ও মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম।

২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন চলচ্চিত্রকার মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সরকারের ১৯ মাসে নানান রকম দায়িত্ব পালন করে প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনার শিকার হন এই চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব। তার বানানো ও মুক্তি পাওয়া সর্বশেষ ছবি ‘৮৪০: ডেমোক্রেসি প্রাইভেট লিমিটেড’।

আরএমডি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।