সংগীতের শক্তিতে এক হয় মানুষ, বিশ্বাস রুনা লায়লার
সংগীত মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে দেয় এবং ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে সবাইকে একত্রিত করে-এমনটাই বিশ্বাস বাংলাদেশের কিংবদন্তিতুল্য সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার। প্রায় দুই দশক পর ভারতের রাজধানী দিল্লি সফরের আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সংগীতের এই অসাধারণ শক্তির কথা তুলে ধরেছেন।
আগামী ৪ থেকে ৮ মে অনুষ্ঠিতব্য দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ১৫তম আসরে ‘মিনার-ই-দিল্লি’ সম্মাননায় ভূষিত করা হবে তাকে। এ উপলক্ষে ঢাকা থেকে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দু-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুনা লায়লা বলেন, “সংগীতের মধ্যে এক ধরনের ঐশ্বরিক শক্তি রয়েছে, যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার হৃদয়ে পৌঁছাতে পারে। সংগীত কোনো সীমান্ত মানে না, বরং মানুষকে একত্রিত করে।”
দক্ষিণ এশিয়ার সংগীতাঙ্গনের দুই কিংবদন্তিতুল্য লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলেকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। রুনা লায়লা বলেন, তারা এই অঞ্চলের সংগীতের ‘স্তম্ভ’ ছিলেন, যাদের শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।
ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতচর্চায় থাকা এই শিল্পীর পথচলা শুরু খুব অল্প বয়সে। মাত্র ১২ বছর বয়সেই গান রেকর্ডিং শুরু করেন তিনি এবং ষাটের দশকে পাকিস্তানি টেলিভিশনে দ্রুত জনপ্রিয়তা পান। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তিনি ফিরে আসেন নিজের শিকড়ে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৪ সালে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস-এর আমন্ত্রণে ভারতে প্রথম সফর করেন রুনা লায়লা। সে সময় তিনি অবাক হয়ে দেখেন, পাকিস্তানে গাওয়া তার গানগুলো এরই মধ্যেই ভারতীয় শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তার মতে, এটি সংগীতের সীমাহীন শক্তিরই প্রমাণ।
পরবর্তীতে বলিউডের একাধিক চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দেন তিনি। ‘এক সে বধকর এক’, ‘ঘারুন্দা’ ও ‘অগ্নিপথ’-এর মতো ছবিতে তার গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তার গাওয়া ‘দমাদম মাস্ত কালান্দার’ গানটি আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে অম্লান। সম্প্রতি কোক স্টুডিও-তে নতুনভাবে গানটি পরিবেশন করে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি।
আসন্ন দিল্লি সফর প্রসঙ্গে রুনা লায়লা বলেন, শেষ কবে তিনি দিল্লি গিয়েছেন তা তার মনে নেই, তবে কাজের সূত্রে কলকাতায় তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। ‘মিনার-ই-দিল্লি’ সম্মাননাকে তিনি একটি ‘চমৎকার উপহার’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ সংগীতই পারে মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমাতে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তুলতে।
আরও পড়ুন:
‘এটা আমাদেরই গল্প’ শেষ হয়ে যাচ্ছে, আবেগে যা বললেন পরিচালক রাজ
জাগো এন্টারটেইনমেন্টে হাসির ঝড়, এলো ‘ঝগড়া হোটেল’
সাক্ষাৎকারে আশা ভোঁসলের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্মৃতিও ভাগ করে নেন তিনি। প্রথম সাক্ষাতে প্রণাম করতে চাইলে আশা ভোঁসলে তাকে আলিঙ্গন করে বন্ধুর মতো গ্রহণ করেছিলেন। এমনকি একাধিকবার নিজ হাতে রান্না করে তাকে আপ্যায়নও করেছেন।
রুনা লায়লা বলেন, “লতা দিদি ও আশা দিদি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। তাদের মতো শিল্পীর অভাব কখনো পূরণ হওয়ার নয়।”
এমএমএফ