আমরা আপনাকে ভুলবো না আতা ভাই : লাকী ইনাম
দেশের মঞ্চনাট্যের কিংবদন্তি ও ‘মঞ্চসারথি’ হিসেবে পরিচিত বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান আর নেই। সোমবার (১১ মে) দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
মঙ্গলবার বাদ জোহর রাজধানীর মগবাজারে ইস্পাহানি সেঞ্চুরি আর্কেডে তার নিজ বাসভবনের সামনে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আতাউর রহমানের মরদেহ রাখা হয়। সেখানে প্রিয় সহকর্মীকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন বরেণ্য অভিনেত্রী লাকী ইনাম।
আতাউর রহমান সম্পর্কে বলতে গিয়ে লাকী ইনাম বলেন, ‘নির্দেশক, অভিনেতা, নাট্য গবেষক, প্রাবন্ধিক আমাদের আতাউর রহমান, আতা ভাই আমাদের মধ্যে আজ আর নেই। সবাইকে চলে যেতে হবে। কিন্তু যারা এই পৃথিবীকে, এই পৃথিবীর মানুষকে, দেশকে, দেশের সংস্কৃতিকে অনেক কিছু দিয়ে গেছেন তাদের চলে যাওয়া অপূরণীয়। ঠিক তেমন একজন মানুষ ছিলেন আতাউর রহমান।’
তিনি আরও বলেন, ‘তার সাথে আমার কর্মক্ষেত্রে পরিচয় বহু বহু বছর আগে। আমার মনে পড়ছে ১৯৭২ সালের কথা। আমি তার সাথে পরিচিত হই এবং তখন সদ্য নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের জন্ম হয়েছে। একটি মঞ্চ প্রযোজনার কথা ভাবা হচ্ছে। আমি সেই মঞ্চ নাটকে কাজ করেছিলাম আতা ভাইয়ের সঙ্গে। সেটি হলো মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো'। আতাউর রহমান নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তার নির্দেশনার সেই স্মৃতি, সেই কর্মকাণ্ড সব আমার আজকে ভীষণভাবে মনে পড়ছে। তিনি হাতে ধরে আমাকে মঞ্চে থিয়েটার করা শিখিয়েছিলেন। উনি আমার প্রথম নির্দেশক।’
‘আর আমার যে জিনিসটা খুব বলতে ইচ্ছে করছে, আজকাল আমাদের এই থিয়েটার জগতে, নাট্য জগতে আমাদের লেখাপড়া, আমাদের জ্ঞানের অত্যন্ত সংকট হয়ে গেছে। আমরা পড়াশোনা কম করছি। আতা ভাইয়ের কথা মনে পড়লে এটুকু মনে পড়ে, উনি যখনই মাইক্রোফোন পেতেন, উনি যখন বক্তৃতা দিতেন, ভাষণ দিতেন, তার কথায় কত যে বিখ্যাত নাট্যকার, নির্দেশক, নাট্য গবেষকদের, দার্শনিকদের নানা রেফারেন্স উনি দিতেন, এটা অসাধারণ! আমি সবসময় বলতাম, ‘আপনি কখন এতো লেখাপড়া করেন আতা ভাই? আপনার থেকে আমাদের শেখার শেষ হবে না এ জনমে।’ উনি হাসতেন। বলতেন, ‘আমার পড়তে ভালো লাগে’- যোগ করেন লাকী ইনাম।
তার মতে, ‘আতাউর রহমান বলতেও পারতেন অনেক রসিকতা করে, অনেক মজা করে এত সুন্দর সুন্দর কথা বলতেন! উনার বক্তৃতাগুলো শোনার মতো ছিল। আজকের প্রজন্মকে আমি বলবো, এই যে আতা ভাইয়ের কথাগুলো তোমরা কী শুনেছো? বিভিন্ন বক্তৃতায়, উনি যেসব রেফারেন্স দিয়েছেন, যাদের কথা বলেছেন, সেগুলো স্মরণ করো এবং নিজেদের জীবনে সেগুলো অ্যাপ্লাই করো। থিয়েটার জগতকে উন্নত করো।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘আতা ভাই চলে গেছেন। যেখানে গেছেন ভালো থাকুন। আমরা আপনাকে ভুলবো না আতা ভাই। আপনি আমাদের হৃদয়ে সব সময়ের জন্যে থাকবেন।’
এমআই/এলআইএ