যেভাবে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের গীতিকার হওয়া যায়

মিজানুর রহমান মিথুন
মিজানুর রহমান মিথুন মিজানুর রহমান মিথুন , লেখক ও সাংবাদিক
প্রকাশিত: ১০:২১ এএম, ১৮ মে ২০২৬
বাংলাদেশ বেতা ও টেলিভিশনে গীতিকার হওয়ার নিয়মাবলি একই।

যারা গান লেখেন, তাদের অনেকেরই স্বপ্ন থাকে বাংলাদেশ বেতার কিংবা বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) তালিকাভুক্ত গীতিকার হওয়ার। দেশের অনেক গীতিকার রাষ্ট্রীয় প্রাচীনতম এই গণমাধ্যম দুটিতে গান লিখে কিংবদন্তিতুল্য হয়েছেন, সংগীতপ্রেমীদের মন জয় করেছেন।

গাজী মাজহারুল আনোয়ার, মনিরুজ্জামান মনির, মোহাম্মদ রফিকুজ্জামানসহ প্রথিতযশা অনেক গীতিকারই বেতার ও বিটিভিতে গান লিখে খ্যাতি কুড়িয়েছেন। দুটি মাধ্যমেই তারা অসংখ্য কালজয়ী গান শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন।

নতুন প্রজন্মের গীতিকারদের অনেকেই জানতে চান- বেতার ও বিটিভির তালিকাভুক্ত গীতিকার কীভাবে হওয়া যায়। তাদের জন্য নিয়মাবলি তুলে ধরা হলো-

বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুটি প্রতিষ্ঠানের গীতিকার হওয়ার নিয়মাবলি একই। বেতার-বিটিভিতে গীতিকার তালিকাভুক্ত করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। সারা বছরই গীতিকার হওয়ার জন্য আবেদন করা যায়।

স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের সংগীত বিভাগে গান জমা হলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গানগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য দেশের বিশিষ্ট গীতিকারদের সমন্বয়ে বোর্ড গঠন করা হয়। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। যাদের গান মানসম্পন্ন বলে বিবেচিত হয়, তাদের চিঠি দিয়ে বা ফোনে জানানো হয়। এরপর তালিকাভুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে গীতিকারদের তালিকাভুক্ত করা হয়। তালিকাভুক্তির পর তাদের গান বেতার ও টেলিভিশনে প্রচারের জন্য রেকর্ডিং শুরু হয়। প্রত্যেক গীতিকার প্রতিটি গানের জন্য বেতার ও টেলিভিশনের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হারে সম্মানী পেয়ে থাকেন।

গীতিকার হতে হলে করণীয়:

১. নিজের লেখা ২৫টি গানের পাণ্ডুলিপিসহ সংশ্লিষ্ট বেতার ও টেলিভিশনের সংগীত বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক/পরিচালক বরাবর আবেদন করতে হয়।

২. দেশাত্মবোধক, আধুনিক, পল্লিগীতি, লোকগান ও ভক্তিমূলক- সব ধরনের গানই গীতিকার হওয়ার জন্য পাঠাতে হবে। তবে সব বিষয় মিলিয়ে গানের সংখ্যা হতে হবে ২৫টি। ২৫টির কম হলে সেই পাণ্ডুলিপি প্রথম বাছাইতেই বাতিল বলে গণ্য হবে।

৩. বেতার-টেলিভিশনের গীতিকার শ্রেণিবিভাগ নেই। অর্থাৎ, একজন গীতিকারকে দেশাত্মবোধক, আধুনিক, পল্লিগীতি, লোকগানসহ সব ধরনের গান লেখায় পারদর্শী হতে হবে।

৪. গানগুলো অবশ্যই মানসম্পন্ন হতে হবে। গানের ছন্দ ও অন্ত্যমিল ঠিক থাকতে হবে। কারণ দেশের খ্যাতিমান গীতিকাররা গান বাছাই করেন। তাদের কাছে গানগুলো মানসম্পন্ন মনে না হলে পাণ্ডুলিপি বাতিল করা হবে। বাতিল হওয়া পাণ্ডুলিপি ফেরত দেওয়া হয় না।

৫. অন্য কোনো গীতিকারের গান পাঠানো যাবে না। কারো গান নকল করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হলে আবেদন বাতিল করা হবে।

৬. ২৫টি গানের পাণ্ডুলিপির আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি পাঠাতে হবে। সেই সঙ্গে আবেদনকারীর পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ও ফোন নম্বর দিতে হবে।

আরও পড়ুন:
যে কারণে কারিনার মৃত্যুতে শোক জানাতে চান না অভিনেতা আবদুল্লাহ রানা
স্বামীর পরকীয়া নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী সুবাহ, বিস্ফোরক দাবি

৭. যে কোনো বেতার কেন্দ্র বা টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকারের গান সব কেন্দ্র থেকে প্রচার করা হয়।

৮. গানের পাণ্ডুলিপি ডাকযোগে কিংবা সরাসরি বেতার বা টেলিভিশন কেন্দ্রে গিয়ে জমা দেওয়া যাবে।

এমএমএফ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।