মন্দ সালমানই মহান সালমান
বলিউডে তাকে বলা হয় ব্যাড বয়। নানা ঝক্কি ঝামেলয়া তিনি প্রায়ই জড়িয়ে থাকেন। বর্তমান সময়টাতেও মামলা মোকদ্দমা নিয়ে হাজারও সমস্যায় আটকে আছেন।
তাতে কী। এই লাগাম ছাড়া মানুষটাই ভেতরে ভেতরে অন্য আরেক জন; উদার এবং মহান। বলছি সালমান খানের কথা। সম্প্রতি তিনি কাশ্মীরের এক গরিব পরিবারকে দত্তক নিয়েছেন।
তার পরবর্তী ছবি কবীর খানের বজরঙ্গি ভাইজানের শুটিংয়ের জন্যে দীর্ঘদিন কাশ্মীরে ছিলেন সালমান। পহেলগাঁও-র যে অংশে তিনি শুটিং করছিলেন, সেখানে বাস ৭৫ বছর বয়সী জাইনা বেগমের। তিনি ছাড়াও তাঁর পরিবারে আছেন এক বিধবা মেয়ে ও তাঁর চার নাতি নাতনি। অভাবের সংসার কোনও ক্রমে চলে ভিক্ষে করে। সালমান খানের সেখানে আসার কথা কানে যাওয়াতে এক প্রতিবেশি জাইনা বেগমকে বোঝান যাতে তিনি সাহস করে একবার সলমানের কাছে গিয়ে তার দুঃখের কাহিনী বলেন।
সেই প্রতিবেশির কথা শুনে সাহস আর আশায় বুক বেঁধে জাইনা পৌঁছে যান ছবির সেটে। সেখানে গিয়ে সালমানের চার দেহরক্ষীকে তিনি অনুরোধ করেন যাতে একবার সালমানের সঙ্গে তার দেখা করিয়ে দেন তারা। একথা সালমানের কানে পৌঁছালে, ত্ৎক্ষণাত্ তিনি জাইনাকে ডেকে পাঠান এবং মন দিয়ে তার সব কথা শোনেন।
জাইনার কষ্ট এতটাই মন ছুঁয়ে গিয়েছিল সালমানের যে তৎক্ষণাত্ তিনি তার বড় নাতি ১৮ বছরের গোহার আহমেদ ভাটকে ছবির সেটে কাজে লাগিয়ে দেন। শুধু তাই নয়, তিনি জাইনাকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, কাশ্মীরে ছবির শুটিং শেষ হয়ে গেলে তিনি তার বড় নাতিকে চাকরি দেবেন মুম্বাইতে।
তিনি আরো কথা দেন যে, জাইনা বেগম এবং তার পরিবারকে আর কোনও দিন কোনও কিছুর জন্যে কষ্ট করতে হবে না। এই ঘটনার পর থেকে সালমানকে ঈশ্বরের আসনেই বসিয়েছেন জাইনা বেগম এবং তার পরিবার।
কৃতজ্ঞতায় নত হয়ে একটাই কথাই বার বার বলছেন তারা, ‘উপর খুদা হ্যায়, নীচে সালমান খান।’
এলএ/পিআর