প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লাস্ট বেঞ্চের যাত্রা শুরু
কল্পনার দৃশ্যগুলোকে ফ্রেমে ধরে ফেলতে পারলেই তো নিজের স্বপ্ন-কল্পনার বীজ অন্যের মাঝেও ছড়িয়ে দেওয়া যায়। আর এক্ষেত্রে নাটক-সিনেমার চেয়ে বড় ক্যানভাস কী হতে পারে। এমন ভাবনা নিয়েই যাত্রা শুরু করলো ফিল্ম প্রোডাকশন হাউজ লাস্ট বেঞ্চ। মৌলিক চিন্তার কাজকে প্রাধান্য দিয়েই প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ ও পথচলা শুরু।
লাস্ট বেঞ্চের প্রধান কর্ণধার তরুণ নির্মাতা-কবি আবদুল্লাহ মাহফুজ অভি। তিনি স্বপ্ন দেখেন বাণিজ্যক-অবাণিজ্যিক সূত্রের বাইরে হেঁটে সূত্রহীন একটি কাঠামো হিসেবে দাঁড়াবে লাস্ট বেঞ্চ।
আবদুল্লাহ মাহফুজ অভি বলেন, ‘আমরা লাস্ট বেঞ্চে বসে বসে যেসব স্বপ্ন দেখতাম তারই একটি দৃশ্যত রূপ এই লাস্ট বেঞ্চ ফিল্মস। সংগ্রামের জীবনে পুড়ে পুড়ে খাটি হতে হয়। তাই আমরা পুড়ে যাচ্ছি শক্ত ভিত গড়বো বলে। লাস্ট বেঞ্চ শুধু বাণিজ্যিক কাঠামোর কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, এর গণ্ডি অনেক বিস্তৃত। আমরা বরং বাণিজ্য-অবাণিজ্যের সূত্রের বাইরে হেঁটে সূত্রহীন একটি কাঠামো হিসেবে দাঁড়াতে চাই। যেখানে বিশেষ কোনো সীমাবদ্ধতা কিংবা বিশেষ কোনো ফ্রেম কাঠামোতে আটকে থাকবে না-চিন্তা ও কাজ।’
লাস্ট বেঞ্চ নামকরণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজ কাঠামো এমন একটি পর্যায়ে সেখানে শুধু ফাস্ট বেঞ্চ গ্রুপই কদর পাচ্ছে। আর লাস্ট বেঞ্চ গ্রুপগুলোকে মানসিক নির্যাতনের জাতাকলে পিষে ফেলছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু আমরা মনে করি লাস্ট বেঞ্চ মানেই ভিন্ন কিছু। এরা গৎবাধা শিক্ষায় স্বাচ্ছন্দ বোধ করে না। ভিন্ন কিছুই দেখতে চায়। আর এমন ভিন্ন জানালা খুলে আমরাও দেখতে চাই, দেখাতে চাই। আর এ কারণেই আমাদের টিমের নাম লাস্ট বেঞ্চ।’
বর্তমানে তাদের কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের চিন্তা অনুযায়ী কিছু টিভি প্রোডাকশেনর জন্য প্রি-প্রোডাকশনের কাজ শুরু করেছি এবং কিছু কর্পোরেট ডক্যুমেন্টরি করছি। এ ছাড়া কর্মাশিয়াল আরো কিছু প্রোজেক্ট শুরু হয়-হবে করছে আরকি। এছাড়া বর্তমান প্রেক্ষাপটের ক্রাইসিসগুলো আমাদেরকে যেসব প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে সেখান থেকে কিছু ভাবনা নিয়ে শর্টফিল্ম বানাচ্ছি। এই ক্রাইসিসগুলোকে সামনে তুলে আনতে আমাদের কাছে আর কোনো মাধ্যম নেই বিধায় শর্টফিল্মের আশ্রয় নিয়েছি।’
লাস্ট বেঞ্চ সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা মুষ্টিমেয় কাঠামোতে বিশ্বাস করি না। তাই আমাদের সদস্য সংখ্যারও কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। সব লাস্ট বেঞ্চের বন্ধুরাই আমাদের আর আমরা তাদের। আমাদের খোলা মাঠে যে কেউ যে কোনো সময় প্রবেশের অধিকার রাখে। এই অস্থায়ী পৃথিবীতে আমাদের কোনো স্থায়ী কার্যালয় নেই।’
এআরএস/আরআই