শ্রদ্ধা ভালোবাসায় সিক্ত আমজাদ হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:০০ পিএম, ২২ ডিসেম্বর ২০১৮

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভক্তদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা আমজাদ হোসেন। প্রায় সহস্রাধিক ভক্ত ফুল হাতে তার মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে শহীদ মিনারে এসেছেন।

শনিবার বেলা ১১টায় ভক্ত ও সহকর্মীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয় আমজাদ হোসেনের মরদেহ। এ সময় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভক্তরা ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান তাকে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

শহীদ মিনারে আমজাদ হোসেনের সহকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, বিশিষ্ট গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর, অভিনেতা হাসান ইমাম, মামুনুর রশীদ, রামেন্দু মজুমদার, কে এস ফিরোজ, রোকেয়া প্রাচী, নির্দেশক নাসিরুদ্দিন ইউসুফসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

Amzad-sm

ফকির আলমগীর জাগো নিউজকে বলেন, তার কাজ ও লেখনী জাতীয় সম্পদ, তাকে আমরা হারিয়ে ফেলেছি। বাংলাদেশে তার ক্ষতি অপূরণীয়।

'সবজান্তা ' আমজাদ হোসেনকে শ্রদ্ধা জানাতে সুদূর ময়মনসিংহ থেকে আজহার আলী এসেছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, উনি জীবনে অনেক কিছুই করেছেন। যখনই যে কাজ করতেন তা শতভাগ সততার সঙ্গে করতেন। আমি তার একটি নাটকে প্রোডাকশন টিমের হয়ে কাজ করেছি। পুরো টিমের ডিরেক্টর থেকে সহকারী পর্যন্ত সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন, টিমকে চাঙা রাখতেন। বাংলার মাটিতে তার ক্ষতি অপূরণীয়।

Amzad-sm

থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) মারা যান ৭৬ বছর বয়সী বরেণ্য চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব আমজাদ হোসেন। এর এক সপ্তাহ পর ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছালে প্রথমে তার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আদাবরের বায়তুল আমান মসজিদে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।রাতে তার মরদেহ বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছিল।

গান লেখা, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান আমজাদ হোসেন। এছাড়া সরকার তাকে একুশে পদকেও ভূষিত করে।

Amzad-sm

১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট জামালপুরে জন্ম নেয়া আমজাদ হোসেন চিত্র পরিচালনার বাইরে লেখক, গীতিকার, অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে ১৯৬১ সালে রুপালি পর্দায় তার অভিষেক হয়। পরে চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনায় তিনি বেশি সময় দেন। ১৯৬৭ সালে মুক্তি পায় তার নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘খেলা’।

এ আর/এমএমজেড/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]