কনকনে শীত উপেক্ষা করে কাঠবিড়ালী দেখতে মানুষের ঢল

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০৬ পিএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯

দিনভর সূর্যের দেখা নেই। টানা কয়েকদিন ধরেই কনকনে শীতে হাড় কাঁপছে মানুষের। বিকেল শেষে রাত যতো ঘনিয়ে আসে ততো ঘন হয় শীতের কুয়াশা ও ঠান্ডা অনুভূতি।

এমনি শীতের রাতে আয়োজন করা হলো সিনেমার প্রিমিয়ারে। সেটাও কোনো থিয়েটার বা প্রেক্ষাগৃহে নয়। গ্রামের এক ক্ষেতের পাশে সামিয়ানা টানিয়ে প্রজকেশনে সিনেমা দেখার ব্যবস্থা করা হলো। সেখানেই নামলো মানুষের ঢল।

নারী-পুরুষ, জোয়ান-বুড়া, শিশু; শিক্ষক, চাকরিজীবী, রাজনীতিবিদ- নানা শ্রেণি পেশার মানুষ শীতের রাতে মোটা কাপড় গায়ে চাপিয়ে ছুটে এলেন।

কারণ সিনেমার পরিচালক তাদের গ্রামের সন্তান। তাদেরই আদরে গড়া ভালোবাসার নিয়ামুল মুক্তা। এই তরুণ নির্মাতা তৈরি করেছেন ‘কাঠবিড়ালী’ নামের সিনেমা। আসছে বছরের শুরুতেই এটি মুক্তি পাবে। তার আগে নিজ গ্রামে ছবিটির প্রিমিয়ার করলেন তিনি। সেখানে মূল অতিথি ছিলো তার পরিবার, গ্রাম ও প্রতিবেশী গ্রামের মানুষেরা।

সিনেপ্লেক্স বা প্রেক্ষাগৃহে সিনেমার প্রিমিয়ার হওয়ার খবর এসেছে এতোদিন।
ফ্ল্যাশ লাইটের ঝলকানি, রেড কার্পেট, বিনোদন দুনিয়ার তারকায় ভরপুর থাকে সেই প্রিমিয়ারে। পরিচালক নিয়ামুল মুক্তা সে পথে হাটলেন না। তার নির্মিত ‘কাঠবিড়ালী’ ছবিটির প্রিমিয়ার হলো অজপারাগাঁয়ে।

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত ৮টায় পাবনার ভাঙ্গুরা উপজেলার গজারমারা গ্রামে পরিচালকের বাড়ির পাশেই প্রিমিয়ার হলো ছবিটির। প্রিমিয়ারের আগে পরিচালক জানালেন, ‘ছবিটি নির্মাণের পেছনে এই গ্রামের মানুষের অনেক অবদান আছে। পুরো ছবিটির শুটিং হয়েছে এই গ্রামে। তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। তাই সবার আগে এই ছবিটি আমি আমার গ্রামের মানুষদের দেখানোটাকে দায়িত্ব মনে করেছি। আমার আমন্ত্রণে সবাই উৎসবের আমেজে ছুটে এসেছেন। আমার এটা খুবই ভালো লেগেছে।’

পরিচালকের আমন্ত্রণে ঢাকা থেকে আরও ছুটে গিয়েছিলেন ছবির নায়িকা অর্চিতা স্পর্শয়া। প্রিমিয়ার শুরুর আগে সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় ভাসলেন তিনি। নিজে এই গ্রামের একজন হয়ে মিশে গেলেন অন্য সবার সাথে। স্পর্শিয়া বলেন, ‘পুরো ছবির শুটিং গ্রামে করেছি। তাই এই গ্রামের মানুষদের সাথে অন্যরকম একটা সম্পর্ক হয়ে গেছে। সবাই এখন আমার পরিচিত। তাদের ভালোবাসার টানেই ঢাকা থেকে ছুটে এসেছি। এখানে সবার ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ।’

প্রিমিয়ার ‘কাঠবিড়ালী’ দেখতে এসেছিলেন আক্কাস নামের একজন। ছবিটি কেমন লাগছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এতোদিন নিজের গ্রামকে চোখে দেখেছি। এখন দেখছি ক্যামেরার চোখে। এতো সুন্দর আমার গ্রাম তা সিনেমায় দেখে অবাক হয়ে গেলাম।’

নিজেদের এই গ্রামকে ক্যামেরার চোখে পুরো বাংলাদেশের মানুষকে দেখানোর সুযোগ করে দেয়ায় পরিচালক নেয়ামুল মুক্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গ্রামের মানুষেরা।

‘কাঠবিড়ালী’ ছবির এই প্রিমিয়ারে আরও হাজির হয়েছিলেন ভাঙ্গুরা পৌরসভার মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল, মন্ডতোষ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ রঞ্জু, পরিচালক নিয়ামুল মুক্তার বাবা আব্দুল হামিদ মাস্টার, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আজিদা পারভিন পাখি প্রমুখ।

আগামী ২৭ জানুয়ারি মুক্তি পাবে মানবিক সম্পর্কের চড়াই-উৎরাইয়ের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘কাঠবিড়ালী’।

‘কাঠবিড়ালি’র কাহিনি লিখেছেন পরিচালক নিজে। চিত্রনাট্য করেছেন তাসনিমুল তাজ। ছবিটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন অর্চিতা স্পর্শিয়া ও আসাদুজ্জামান আবীর। আরও অভিনয় করেছেন সাঈদ জামান, শাহরিয়ার ফেরদৌস, শিল্পী সরকার, হিন্দোল রায়, এ কে আজাদ, তানজিনা রহমান প্রমুখ। ছবিটি প্রযোজনা করেছে চিলেকোঠা ফিল্মস।

এলএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]