এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, আবারও কেমোথেরাপি শুরু

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৭ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২০

বাংলা গানের স্বর্ণকণ্ঠ এন্ড্রু কিশোর। তাকে প্লেব্যাকের সম্রাট বলা হয়। বর্তমানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে। অসুস্থ অবস্থায় গত ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছিলেন তিনি।

পাঁচ মাস ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন দেশ বরেণ্য এই শিল্পী। এরই মধ্যে ১৭টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে তাকে।

এদিকে সম্প্রতি শারীরিক কিছু জটিলতার কারণে গত এক মাস এন্ড্রু কিশোরেকে কেমোথেরাপি দেওয়া বন্ধ রেখেছিলেন চিকিৎসক। জরুরি ভিত্তিকে কয়েক ব্যাগ রক্তও দিতে হয়েছে তাকে। এই খবর আসার পর দেশের শোবিজে একটা থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিলো; প্রিয় শিল্পীকে নিয়ে মন্দ সন্দেহের বেদনা-বিষাদে।

তবে সর্বশেষ খবর জানা গেল শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এন্ড্রু কিশোরের। আজ শনিবার (১৮ জানুয়ারি) থেকে আবারও কেমোথেরাপি দেওয়া শুরু করেছেন চিকিৎসকরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এন্ড্রু কিশোরের স্নেহভাজন কণ্ঠশিল্পী মোমিন বিশ্বাস।

তিনি জানান, ‘চিকিৎসার শুরুতে জানানো হয়েছিল, এন্ড্রু কিশোরকে ৬টি সাইকেলে ২৪টি কেমোথেরাপি দিতে হবে। ইতোমধ্যে তার ১৭টি কেমো সম্পন্ন হয়েছে। এবার শুরু হলো ১৮তম কেমোথেরাপিটি। এটা শেষ হলে আর এখনো ৬টি কেমো দেওয়া বাকি। আশা করা হচ্ছে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে সবার মাঝে ফিরে আসবেন দাদা। তার পরিবার দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।’

মোমিন বিশ্বাস বলেন, ‘চিকিৎসকরা আমাদের জানিয়েছিলেন ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে সবগুলো কেমোথেরাপি দেওয়া শেষ হয়ে যাবে। এরপরই তিনি দেশে ফিরতে পারবেন। কিন্তু গত একমাস দাদার শরীরের নানা জটিলতার কারণে কেমো বন্ধ রাখা হয়। শরীরের এই সমস্যাগুলো দূর করে আবারও কেমোথেরাপি দেওয়া শুরু হলো।’

এদিকে শিল্পীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসায় দুই কোটিরও বেশি টাকা খরচ করেছে তার পরিবার। প্রয়োজন আরও অনেক টাকা।

এন্ড্রু কিশোরকে বাংলা চলচ্চিত্রের গানের এক মহাসমুদ্র বলা যেতে পারে। কয়েক দশক ধরে সেই সমুদ্রে সাঁতার কেটে চলেছেন শ্রোতারা। তার কণ্ঠ মধু ছড়ায়, তার শত শত গান মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

সুখ-দুঃখ, হাসি-আনন্দ, প্রেম-বিরহ সব অনুভূতির গানই তিনি গেয়েছেন। তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যে খানে, পৃথিবীর যত সুখ আমি তোমার ছুঁয়াতে খুঁজে পেয়েছি, সবাইতো ভালোবাসা চায়, বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে, তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন, ভালো আছি ভালো থেকো, তুমি মোর জীবনের ভাবনা, চোখ যে মনের কথা বলে, পড়েনা চোখের পলক ইত্যাদি।

এমএবি/এলএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]