দেবীর পর স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল নিয়ে মাঠে নেমেছেন অনম বিশ্বাস

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৩৮ পিএম, ০২ জুলাই ২০২০

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় চরিত্র মিসির আলী। এই চরিত্রের বেশ কিছু সিরিজ উপন্যাস তিনি লিখেছেন। যার মধ্যে ‘দেবী’ অন্যতম। এই উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমা বানিয়ে আলোচনায় এসেছেন অনম বিশ্বাস। নির্মাণের মুন্সিয়ানা দেখিয়ে তিনি নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্রকার হিসেবে প্রশংসাও পেয়েছেন। সেই তিনি এবার প্রস্তুত নতুন করে লড়াই শুরু করতে।

এবারে কোনো রহস্য উন্মোচন নয়; অনম বিশ্বাস পর্দায় তুলে ধরবেন মহান মুক্তিযুদ্ধের গর্বের এক ইতিহাস। জানাবেন নায়কোচিত কিছু জীবনের গল্প। যেখানে নায়ক হিসেবে ধরা দেবেন ১৯৭১ সালে দেশপ্রেম বুকে নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে ফুটবলের মাঠে প্রতিনিধিত্ব করা কয়েকজন বীর।

অর্থাৎ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের গল্প নিয়ে সিনেমা তৈরি করতে চলেছেন অনম বিশ্বাস। তার সেই ছবির নাম ‘ফুটবল ৭১’। ছবিটি এরইমধ্যে সরকারি অনুদানের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সম্প্রতি সরকারি অনুদান পাওয়া সিনেমাগুলোর তালিকায় এ ছবির নাম দেখা গেছে।

এই বিষয়টিকে সিনেমার সাফল্যের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন নির্মাতা অনম বিশ্বাস। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ছবিটি নিয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে গবেষণা করে যাচ্ছি। এটি সিনেমা হলেও ইতিহাস ও তথ্য নির্ভর একটি কাজ। তাই বেশ সময় নিয়ে কাজটি করতে হচ্ছে। পরিশ্রমও হচ্ছে। চিত্রনাট্য এখনো ঘষামাজা চলছে। এই অবস্থায় সরকারি অনুদান পাওয়াটা ছবি নির্মাণের শক্তিটা বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি বাংলাদেশ সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ আমার স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকার জন্য। একটি ভালো কাজের চেষ্টা করে যাচ্ছি। ছবিটি যেন মুক্তিযুদ্ধের দলিল হিসেবে আর্কাইভে স্থান পায় সেই চ্যালেঞ্জটাও গ্রহণ করেছি।’

এই নির্মাতা আরও জানান, সরকারি অনুদানের ছবিটির মূল প্রযোজক তিনি নিজেই। যদি আরও প্রয়োজন হয় তবে সহযোগী প্রযোজক নিয়েও ভাববেন তিনি। তার মতে, গবেষণাধর্মী ও তথ্যবহুল কাজের জন্য যেমন অনেক সময় দরকার তেমনি ভালো বাজেটও দরকার।

ছবির চিত্রনাট্য করেছেন পরিচালক। অনমের ভাষ্য, ‘সিনেমাটিতে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের বীরত্ব উঠে আসবে। যেমন কাজী সালাহউদ্দিনের চরিত্রটি থাকবে। প্রথমে তিনি কলকাতায় তখন মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিচ্ছিলেন। পরে রেডিওতে শুনলেন দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ফুটবল দল গঠন করা হবে। সেখানে খেলতে ছুটে গেলেন তিনি। অংশ হলেন গর্বিত এক ইতিহাসের। সঞ্চয় করলেন আবেগমাখা সাহসী কিছু গল্প। সাহসী ও দেশপ্রেমে বলীয়ান এসব গল্পই দেখানো হবে ছবিতে।

এখানে জানা বা প্রচলিত ইতিহাস যেমন থাকবে তেমনি মুক্তিযুদ্ধে ফুটবল দলের অবদানের অনেক অজানা তথ্যও উঠে আসবে যা আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে বর্ণিল করেছে। দেশের বাইরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম এই ফুটবল দলের হাত ধরে উড়েছিলো। সেই আবেগের চিত্রায়ণও হবে। আমি চাই ছবিটা দেখার পর সবার মুখে মুখে থাকবে মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের অবদানের গল্প।’

ছবি নিয়ে নিজের প্রস্তুতি জানিয়ে অনম বিশ্বাস বলেন, ‘চিত্রনাট্যটা কমপ্লিট করছি। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অনেক সদস্যদের সঙ্গে দেখা করবো। আশা করছি তারা তথ্য দিয়ে, যে যেভাবে পারেন পাশে থাকবেন।’

‘কে কোন চরিত্রে অভিনয় করবেন তা এখনো কিছু চূড়ান্ত করিনি। তবে পরিকল্পনা করা আছে। যেহেতু খেলাধুলা নির্ভর গল্প তাই এখানে ভালো অভিনয়ের পাশাপাশি দৈহিক গঠনের বিষয়টিও প্রাধান্য পাবে। এই মুহূর্তে এটুকু বলতে পারি সবার খুব প্রিয় ও পরিচিত মুখ নিয়েই ছবিটি তৈরি করবো। গল্পের প্রয়োজনেই তরুণ অভিনয় শিল্পীদের আধিক্য থাকবে। কিছু চমকও থাকবে। সব প্রস্তুতি শেষ করে ছবির শিল্পী তালিকা ও শুটিংয়ের বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেবো’- যোগ করেন অনম বিশ্বাস।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের একটি ফুটবল দল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত অর্জন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যার্থে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনী ফুটবল খেলায় অংশ নেয়। এই দলটিকেই স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল নামে অভিহিত করা হয়।

৩৪ জন খেলোয়াড়, ম্যানেজার এবং কোচসহ সর্বমোট ৩৬ জনকে নিয়ে গড়ে তোলা হয় ফুটবল দলটি। এর অধিনায়ক ছিলেন জাকারিয়া পিন্টু। সহ: অধিনায়ক ছিলেন প্রতাপ শঙ্কর হাজরা। ব্যবস্থাপক ছিলেন তানভীর মাজহারুল ইসলাম তান্না এবং দলের প্রশিক্ষক ছিলেন ননী বসাক।

পৃথিবীর ইতিহাসে যুদ্ধকালীন প্রথম ফুটবল দল এটি।

এলএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]