সেতু থাকতেও নৌকায় নদী পাড় হোন এখানকার মানুষ
জীবন পাল
সিলেট নগরের বুক চিরে বয়ে চলা সুরমা নদী। একপাশে কালীঘাট, অন্যপাশে চাঁদনীঘাট। মাঝখানে ছোট ছোট নৌকার যাতায়াত এপার থেকে ওপার, ওপার থেকে এপার চলছে নিরবচ্ছিন্ন পারাপার। সেতু কাছেই দাঁড়িয়ে, তবু এই ঘাটে মানুষের ভিড় থামে না।
কেউ বৈঠা টানছেন, কেউ নৌকার ধারে বসে যাত্রীর অপেক্ষায়। নদীর বুকে ভেসে থাকা এই ছোট নৌকাগুলো যেন শহরের আরেকটি চলাচলের সড়ক।
এই ঘাটের কয়েকজন মাঝি দুই ঘণ্টা নৌকা চালিয়ে এক ঘণ্টা বিশ্রাম নেন। একটি নৌকায় দুজন মাঝি পালা করে দায়িত্ব ভাগ করে নেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই ছন্দেই কাটে তাদের দিন। তবে সব ঘাটে একই নিয়ম চলে না যাত্রী আর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে কাজের সময়সূচি বদলে যায়।
দিন শেষে যে আয়, তা খুব বেশি নয়। নির্দিষ্ট মজুরির একটি অংশ চলে যায় নৌকার মালিকের কাছে। বাকি দিয়ে চলে সংসার। বৃষ্টির দিনে সেই আয়ও কমে আসে। তবুও থামে না বৈঠার টান।
এই নদীপথ বেছে নেওয়ার মূল কারণ সময় আর খরচ। সড়কপথে গেলে ঘুরে যেতে হয়, ভাড়া বেশি, আর যানজটের ভোগান্তি তো আছেই। অন্যদিকে নৌকায় মাত্র পাঁচ টাকায় কয়েক মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া যায় গন্তব্যে।
ঘাটে দাঁড়ালে বোঝা যায়, কত ধরনের মানুষের ভরসা এই নৌকা। কেউ মালামাল নিয়ে উঠছেন, কেউ ফিরছেন বাজার করে। ব্যবসায়ীরা পাইকারি বাজারে যেতে এই পথকে সবচেয়ে সুবিধাজনক মনে করেন। কম খরচে দ্রুত যাতায়াত লাভের হিসাবও মেলে এখানে।
শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী সবার কাছেই এই পথ এখন দৈনন্দিন যাতায়াতের অংশ। নদীর একপাশে বাসা, অন্যপাশে কর্মস্থল এমন অনেকেই প্রতিদিন নৌকায় পার হন। বয়স্কদের কাছেও এই পথ স্বস্তির। সেতু পার হওয়ার কষ্ট এড়াতে তারা সরাসরি ঘাটে এসে নৌকায় ওঠেন।
সুরমার এই পারাপারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কালীঘাটের পাইকারি বাজার। প্রতিদিনই সেখানে মানুষের আনাগোনা। নৌকায় পার হয়ে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় বাজারে। খরচও কম, সময়ও বাঁচে।
কালীঘাট, চাঁদনীঘাটে এখনো চলছে হাতের বৈঠার নৌকা। অন্য কোথাও ইঞ্জিনচালিত নৌকা থাকলেও এখানে টিকে আছে পুরোনো ছন্দ। সুরমার বুক জুড়ে চলা এই নৌকাগুলো তাই শুধু পারাপারের মাধ্যম নয় এগুলো সময় বাঁচানোর পথ, জীবিকার অবলম্বন, আর এক শহরের নীরব চলাচলের গল্প।
- আরও পড়ুন
ফুটপাতে ভাতের হোটেল: ঢাকার শ্রমজীবীদের ৩ বেলা আহারের ভরসা
পৃথিবীর যেসব স্থানে গুপ্তধন পাওয়া গেছে
কেএসকে