পথশিশুদের জন্য ‘প্রজেক্ট নতুন জামা’

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৫৮ পিএম, ০৯ জুন ২০১৮

মানুষের মুখে একদিনের জন্য হলেও যেন হাসি ফোটে- এই মন্ত্রকে ধারণ করেই ‘প্রজেক্ট নতুন জামা’ নামে একটি কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়। ২০১৩ সাল থেকে শুরু হওয়া সেই কর্মসূচি চলছে এখনো। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মেহেদী শামীম-

আড্ডার মধ্যেও লুকিয়ে থাকে অনেক সম্ভাবনা। হতে পারে নতুন কোনো পরিকল্পনা। তা অবশ্যই মানুষের কল্যাণে। আর তাই তো, মাদারীপুরের শকুনী লেকের পাড়ে একদল বন্ধুর মধ্যেও চলতে থাকে একই রকম পরিকল্পনা।

কতগুলো স্বপ্নবাজ তরুণ যখন একই ছাতার নিচে জমায়েত হয়; তখনই সৃষ্টি হয় নতুন উদ্যোগ। সেই উদ্যোগের নাম মাদারীপুর সোস্যল সার্ভিস ক্লাব। ক্লাবটি ২০১৩ সালে প্রথম ‘প্রজেক্ট নতুন জামা’ শুরু করে মাত্র ২৩ পথশিশুকে ঈদে নতুন কাপড় বিতরণের মধ্য দিয়ে। এরপর থেকে আর থেমে থাকেনি সংগঠনটি। প্রতিবছর দুস্থ-পথশিশুদের মধ্যে বিতরণ করে যাচ্ছে নতুন জামা।

jama-in

এ পর্যন্ত ক্লাবটি ১ হাজার ২২৯ শিশুর হাতে নতুন জামা তুলে দিতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৮ সালে আরো ৫০০ শিশুকে নতুন জামা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এছাড়া প্রজেক্ট নতুন জামা পৌঁছে গেছে নাটোর পর্যন্ত। শুধু নতুন জামা নয়- ক্লাবটি প্রজেক্ট স্কুলিং, প্রজেক্ট উষ্ণতা, প্রজেক্ট ফরওয়ার্ড, শহরের বিনোদনকেন্দ্র পরিষ্কার কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে।

২০১৪ সাল থেকে প্রথম প্রজেক্ট স্কুলিং শুরু হয়ে ২০১৮ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬০০ গরিব-মেধাবী শিশু শিক্ষার্থীর হাতে নতুন ব্যাগ তুলে দিতে পেরেছে। প্রতিবছর সরকারি বই উৎসবের সময় ক্লাবটি বইগুলো নিরাপদে রাখার জন্য নতুন একটি ব্যাগ উপহার দেয়। এ উদ্যোগের ফলে কিছু কিছু এলাকায় স্কুলে নিয়মিত উপস্থিত থাকার হার বেড়ে গেছে।

ক্লাবটি জন্মলগ্ন থেকেই প্রজেক্ট উষ্ণতার আয়োজন করে আসছে। কখনো পুরনো কাপড় সংগ্রহ করে বিতরণ করেছে। আবার কখনো নতুন কম্বল সংগ্রহ করে বিতরণ করেছে।

jama-in

প্রজেক্ট ফরওয়ার্ড ক্লাবটির আরেক সফল উদ্যোগ, যেখানে জেলার শিক্ষকদের সমন্বয়ে শিক্ষা সহায়তার জন্য বিনামূল্যে কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। ১৮ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী নিয়ে এ শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি চলে দীর্ঘদিন। এ প্রজেক্টের মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী উপকৃত হয়।

তাছাড়া প্রতিবছর শহরের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র শকুনী লেক পরিষ্কার কর্মসূচির আয়োজন করে ক্লাবটি। এতে স্থানীয় সরকারসহ সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করেছে।

ক্লাবে দুই ধরনের সদস্য রয়েছে। একদল সদস্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে। অন্যদল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। তাই এ প্রতিষ্ঠানের অর্থ সংগ্রহ করতে তেমন একটা বেগ পেতে হয় না। একদল অর্থ সংগ্রহ করে অন্যদল কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠে কাজ করে।

এসইউ/এমএস