১৩৫ বছর ধরে ভুতুড়ে গ্রামের গাছে ঝুলছে সেলাই মেশিন!

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:১৪ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০২১

গাছে ধরে ফুল-ফল। কিন্তু কখনো কি দেখেছেন, আস্ত এক সেলাই মেশিন গাছে ঝুলে আছে! তা-ও আবার ১৩৫ বছর ধরে। অবাক করা কাণ্ড হলেও সত্যি এমনটি ঘটেছে। মনে আছে, নিউজিল্যান্ডের ‘তে ওয়াইরোয়া’র অগ্ন্যুৎপাতের কথা? তখন ঘটেছিল এমন ঘটনা।

১৮৮৬ সালে মাওরি উপজাতিদের এলাকা ‘তে ওয়াইরোয়া’ গ্রামটি অগ্ন্যুৎপাতের লেলিহান শিখায় মুখ থুবড়ে পড়ে। গ্রামবাসী নিরাপদ আশ্রয়টুকুও নিতে পারেনি সেদিন। যে অবস্থায় তারা ছিলেন; সেভাবেই পুড়ে মমি হয়ে ছিলেন। আজও এ গ্রাম থেকে বিভিন্ন মানুষের কঙ্কাল ও হাড়ের সন্ধান মেলে।

jagonews24

এরই মধ্যে তে ওয়াইরোয়া নগরী ও তার আশেপাশের এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মূল্যবান অনেক জিনিসপত্র। সেগুলো রাখা হয়েছে ‘তে ওয়াইরোয়া’র প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহশালায়। এর মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলো সেলাই মেশিন। এর বিশেষত্ব হলো, আগুনের তোড়ে সেটি কালের সাক্ষী হতে উঠে বসে গাছে! গাছের দুই ডালের মাঝে জায়গা করে নেয়।

এরপর কেটে গেছে ১৩৫ বছর! একইভাবে গাছে বসে ছিল মেশিনটি যুগ যুগ ধরে। পরে অবশ্য গাছটি পচে যাওয়ায় কেটে ফেলা হয়। এরপর গাছ থেকে নামানো হয় সেলাই মেশিনটি। ঐতিহাসিক নিদর্শনটির এখন জায়গা হয়েছে ‘তে ওয়াইরোয়া’র প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহশালায়।

jagonews24

১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দের ১০ জুন মাউন্ট তারাওয়েরার অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় ‘তে ওয়াইরোয়া’ গ্রাম। আগুনের ধ্বংসলীলায় প্রাণ হারান ১২০ জনের বেশি। ‘তে ওয়াইরোয়া’ আজও সেই ক্ষত বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পরিত্যক্ত ও ভুতুড়ে গ্রামের আখ্যা পেয়েছে স্থানটি।

১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রামটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ধর্মপ্রচারক সেমৌর মিলস স্পেনসার। এরপর থেকে নিউজিল্যান্ডের বিশ্বখ্যাত উষ্ণ প্রসবণ ‘পিঙ্ক অ্যান্ড হোয়াইট টেরেস’ দেখতে যাওয়ার পথে এ জনপদে বিশ্রাম নিতেন পর্যটকরা।

jagonews24

প্রথমে ভাবা হয়েছিল ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দে আগ্নেয়গিরি তারাওয়ের’র অগ্ন্যুৎপাতে বিলীন হয়ে গিয়েছে বিখ্যাত দু’টি উষ্ণ প্রসবণও। পরে প্রসবণ দু’টির অস্তিত্বের খোঁজ মেলে। ‘তে ওয়াইরোয়া’ এখন পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় এক স্থান। সেখানকার ওয়াইরোয়া ঝরনা, রোটোকাকাহি হ্রদ এবং তারাওয়েরা হ্রদ পর্যটকদের কাছে অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রামটি খননের ফলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা বেশ কিছু জিনিস আবিষ্কার করেন। তারা সব কিছুই আগ্নেয়গিরির ছাই এবং কাদার নিচ থেকে উদ্ধার করেন। মাওরি উপজাতিদের অতীত জনপদের সেই জিনিসগুলো দেখতে ভিড় জমান পর্যটকরা। রোটোরুয়া শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে এ ঘুমন্ত গ্রামে সাজানো আছে পাথরের তৈরি গুদামঘর, মাওরিদের নৌকা এবং কামারশালা।

jagonews24

প্রত্নতাত্ত্বিক এসব জিনিসগুলো সংগ্রহ করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ‘তে ওয়াইরোয়া’র সংগ্রহশালায়। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এ মৃত জনপদ কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পত্তি। ১৯৩১ সালে ‘তে ওয়াইরোয়া’ কিনে নেন এক দম্পতি- রেগ এবং ভি স্মিথ। সে সময় এ জমিতে একটি মাত্র বাড়ি ছিল। স্মিথ দম্পতি কিনে নেওয়ার পরে ওই গ্রামে শুরু হয় খননকাজ।

এখন রেগ এবং ভি স্মিথ দম্পতি পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম ভুতুড়ে গ্রামটির মালিকানা লাভ করেছেন। স্থানটির দেখভাল ও প্রত্নতাত্ত্বিক জিনিসগুলো সংরক্ষণে তারাও যথেষ্ট যত্নবান। ভুতুড়ে পরিচয় পেলেও ‘তে ওয়াইরোয়া’ গ্রামটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

জেএমএস/এসইউ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]