সেলুনভিত্তিক পাঠাগার গড়ছেন বইপ্রেমী হারুন

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:২৩ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০২১

বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে কত মানুষ কত কিছুই না করে থাকে। কেউ করে পৈশাচিক সুখের আশায়, কেউবা আবার আত্মতৃপ্তির নেশায়। তবে রহস্যময় জগতের মনুষ্যসৃষ্ট বেশিরভাগ কর্মই সম্পাদিত হয়ে থাকে লোক দেখানোর লক্ষ্যে। আবার ব্যতিক্রম কিছু কাজেও আমাদের দৃষ্টি থমকে দাঁড়ায়। যার অন্তরালে লুকিয়ে থাকে ঘুণে ধরা এ সমাজকে সভ্যতার আলোয় আলোকিত করা।

তেমনই একজন মানুষ বইপ্রেমী হারুন অর রশীদ। বইয়ের সাথেই যার আজন্ম সখ্য। আমরা তাকে এ যুগের পলান সরকার হিসেবেই চিনে থাকি। তাকে বলা হয় আলোর ফেরিওয়ালা। বইয়ের আলোয় সমাজকে আলোকিত করার লক্ষ্যে এবারের উদ্যোগ তাক লাগিয়ে দিয়েছে সবাইকে।

বইপ্রেমী হারুন অর রশীদ উদ্যোগ নিলেন সেলুনভিত্তিক পাঠাগার নির্মাণের। এবং সফলও হলেন তাতে। ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় কলাকোপা বাজারের সুব্রত হেয়ার কাটিং সেলুনে নির্মাণ করলেন সেলুনভিত্তিক ব্যতিক্রমী এক পাঠাগার। উদ্দ্যেশ্য চুল কাটতে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অলস সময়ের ফাঁকে বই হাতে তুলে দেয়া।

মূলত সমাজের একটি অংশকে বইমুখী করাই হচ্ছে তার উদ্যোগের মূল উদ্যেশ্য। ‘বই হোক নিত্যসঙ্গী’- এ স্লোগানকে সামনে রেখে অফলাইনে বইয়ের প্রচারে এ উদ্যোগের সাথে থাকতে চাইলে যে কেউ শামিল হতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে যেখানেই সুযোগ সৃষ্টি হবে, সেখানেই ধাপে ধাপে নির্মিত হবে এ ব্যতিক্রমী পাঠাগার। প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশের বিখ্যাত লেখকদের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় কিছু লেখকের বইও স্থান পেয়েছে সেলুন পাঠাগারটিতে।

দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে, অফলাইনে বই নিয়ে কাজ করে আসছেন বইয়ের এ ফেরিওয়ালা। গতবছর করোনা লকডাউনেও তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই পৌঁছে দিয়েছেন, যা অনেকের মানসিক প্রশান্তিতে ভূমিকা রেখেছিল।

বই নিয়ে নিত্য নতুন এসব উদ্যোগ এবং ইন্টারনেটে ঝুঁকে যাওয়া প্রজন্মকে বইমুখী করার এ কাজকে স্বীকৃতি জানিয়ে কিছুদিন আগেই আফ্রিকা এশিয়া ইউথ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তিনি বাংলাদেশের বেস্ট সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বই নিয়ে স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে চাইলে আলোর ফেরিওয়ালা হারুন অর রশীদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরণ বইয়ের কথা ছড়িয়ে দিতে চাই গ্রাম থেকে শহরে এবং লোকান্তরে। এর জন্য সবার সহাযোগিতা কামনা করছি। যে কেউ এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। অর্থ বা বই দিয়ে পাশে থাকতে পারেন।’

উল্লেখ্য, বই নিয়ে তিনি গত দশ বছর ধরে কাজ করছেন অফলাইন এবং অনলাইনে। তিনি ১৯৮৩ সালের ১০ আগস্ট কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলায় গোবরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

এসইউ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]