স্বাস্থ্যখাত নিয়ে জামায়াতের ৩৭ প্রতিশ্রুতি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩০ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান/ছবি: মাহবুব আলম

নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতিতে ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। ইশতেহারে ‘স্বাস্থ্যসেবা সবার অধিকার’ শিরোনামে ৩৭টি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে দলটি।

বুধবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

স্বাস্থ্যখাত নিয়ে যে ৩৭টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত। সেগুলো হলো:

১. হাতের নাগালে, কম খরচে ও উন্নত মানের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে।
২. ৫ বছরের নিচে এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে সব নাগরিককে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে।
৩. প্রথম ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বিদ্যমান সরকারি হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্যসেবা সক্ষমতা শতভাগে উন্নীত করা হবে। এজন্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, যন্ত্রপাতির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।
৪. সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা ও ডিজিটাল হেলথকার্ড চালু করা হবে।
৫. স্বাস্থ্যখাতে বাজেট পর্যায়ক্রমে তিনগুণ করা হবে।
৬. চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী-রোগীর অনুপাত আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে।
৭. দ্রুততম সময়ে চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টসহ সব পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।
৮. উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করে রাজধানীকেন্দ্রিক চাপ কমানো হবে। জেলা ও উপজেলায় ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করে মানুষের ভোগান্তি ও ব্যয় কমানো হবে।
৯. পর্যায়ক্রমে সব জেলায় পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল স্থাপন করা হবে, যাতে জনগণ নিজ জেলাতেই সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা পায়। প্রতিটি জেলা সদর সরকারি হাসপাতালে যথাযথ জনবল ও সরঞ্জামসহ কমপক্ষে ৫ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার, আইসিইউ ও সিসিইউ স্থাপন করা হবে।
১০. ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রেজিস্টার্ড স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও ওষুধ সরবরাহ করা হবে। শহর ও সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র (জিপি সেন্টার) চালু করা হবে এবং সব পর্যায়ে কার্যকর রেফারেল সিস্টেম চালু করা হবে।
১১. প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে টেলিমেডিসিন ও রেফারেল সিস্টেম চালু করা হবে।
১২. স্বাস্থ্যখাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি নির্মূলে সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানসহ সব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক আয়-ব্যয়ের তথ্য পাবলিক ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। ক্রয় প্রক্রিয়ায় ই-জিপি চালু করা হবে।
১৩. সব হাসপাতালে নারী ও শিশু চিকিৎসায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
১৪. প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের জন্য হোম কেয়ার, রিহ্যাবিলিটেশন ও প্যালিয়েটিভ কেয়ারের ব্যবস্থা করা হবে।
১৫. বাংলাদেশের সব হাসপাতালে প্রবাসীদের চিকিৎসাসেবা সহজীকরণ করা হবে।
১৬. আইন প্রণয়ন ও কার্যকর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর কমিশন বাণিজ্য, উপহার ও অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা লেখানোর অপসংস্কৃতি বন্ধ করা হবে।
১৭. সততা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য ক্যাডারদের নিয়মিত পদোন্নতি নিশ্চিত করা হবে।
১৮. জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দেশের সরকারি হাসপাতালে সেবা গ্রহণে উৎসাহিত ও নিশ্চিত করা হবে।
১৯. মানহীন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সার্বিক মানোন্নয়ন করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সেবা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন (বিএবি, আইএসও, জেসিআই, এনএবিএইচ) মানে উন্নীত করা হবে।
২০. বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশন পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি ও সক্ষমতা আছে কিনা তা নিশ্চিত করা হবে এবং নিয়মিত মনিটরিং করা হবে।
২১. বর্তমানে চালু মানহীন মেডিকেল কলেজগুলোর মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
২২. মানসম্পন্ন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দ্রুত জনবল নিয়োগ করে বিএমইউ সুপার-স্পেশালাইজড হাসপাতাল চালু করা হবে।
২৩. বিএমইউসহ সব মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং গবেষণা ও চিকিৎসায় উৎকর্ষের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
২৪. দেশের স্বাস্থ্যখাতের চাহিদা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী তৈরিতে উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করা হবে।
২৫. হাসপাতালে রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
২৬. চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ বিএমডিসি আইনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে রোগীর অধিকার সংরক্ষণ করা হবে। বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে বিএমডিসি অফিস স্থাপন করে সারাদেশে চিকিৎসার মান তদারকি নিশ্চিত করা হবে।
২৭. রোগীদের ভোগান্তি কমাতে সিরিয়াল, ভর্তি, অপারেশন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ প্রাপ্তিতে অটোমেশন চালু করা হবে।
২৮. ৩০০টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ (ইএমএল) নিয়ন্ত্রিত ও ন্যায্য মূল্যে সরবরাহ করা হবে; ধাপে ধাপে তা ৫০০-তে উন্নীত করা হবে।
২৯. হাসপাতালে রোগীদের খাবারের গুণগতমান প্রতি সপ্তাহে পরীক্ষা করা হবে।
৩০. আন্তর্জাতিক মানের একাধিক মডেল হাসপাতাল চালু করে মেডিকেল ট্যুরিজমকে ব্র্যান্ডিং করা হবে। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হবে।
৩১. দেশের জরুরি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা ও সেবার গুণগত মান বাড়ানো হবে।
৩২. ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে। ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ ও ক্যান্সারসহ অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
৩৩. টিকাদান কর্মসূচিতে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করা হবে।
৩৪. প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
৩৫. মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ করে আসক্তি ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
৩৬. সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে অ্যাসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
৩৭. ওষুধ কোম্পানি ও ওষুধকে গ্রেডিংয়ের আওতায় আনা হবে, যেখানে ওষুধের গুণগত মানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এসইউজে/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।