আইসিডিডিআর,বি’র শোক

রাইস-ওআরএস গবেষণার পথিকৃৎ ড. মাজিদ মোল্লার মৃত্যু

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০১:৫৫ পিএম, ১৩ মে ২০২৬
ড. আবদুল মাজিদ মোল্লা-ফাইল ছবি

ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস) এবং রাইস-ওআরএস (রাইস ওআরএস) উদ্ভাবনের অগ্রণী গবেষক, শিশু চিকিৎসা ও বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ড. আবদুল মাজিদ মোল্লা মারা গেছেন। গত ৮ মে রাজধানী ঢাকায় ৮৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে আইসিডিডিআর,বি।

আইসিডিডিআর,বি’র হেড অব কমিউনিকেশন এ কে এম তারিফুল ইসলাম খান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ড. মোল্লা ১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে তিনি এমবিবিএস পাস করেন। শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়ন, ডায়রিয়াজনিত রোগ গবেষণা এবং দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চিকিৎসা শিক্ষার অগ্রগতিতে তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেন।

১৯৬৫ সালে তৎকালীন পাকিস্তান-সিয়াটো কলেরা রিসার্চ ল্যাবরেটরি (সিআরএল)—বর্তমান আইসিডিডিআর,বি’র সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা শুরু হয়। ১৯৭৫ সালে তিনি বেলজিয়ামের ইউনিভার্সিটি অব লুভাঁ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানে তিনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের সিলিয়াক রোগ নিয়ে গবেষণা করেন এবং একই সঙ্গে শিশু চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞতা অর্জন করেন।

১৯৭৮ সালে তিনি আইসিডিডিআর,বি’তে বিজ্ঞানী হিসেবে পুনরায় যোগ দেন এবং ক্লিনিক্যাল গবেষণা, রোগীসেবা ও শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ে কাজ চালিয়ে যান। রোগীসেবার প্রতি নিষ্ঠা এবং বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষের প্রতি অঙ্গীকারের জন্য ড. মোল্লা ব্যাপকভাবে শ্রদ্ধেয় ছিলেন।

ক্লিনিক্যাল গবেষণায় তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান, বিশেষ করে রাইস-ওআরএস উন্নয়নে ভূমিকা, ডায়রিয়াজনিত রোগ ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি আগা খান বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগ দেন।

পরে ১৯৯২ সালে তিনি কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিশুস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষায় অবদান অব্যাহত রাখেন।

ড. মোল্লা তার স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। তার স্ত্রী ড. আয়েশা মোল্লাও আইসিডিডিআর,বি’র একজন সম্মানিত সদস্য ছিলেন এবং অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট (সহযোগী বিজ্ঞানী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ডায়রিয়াজনিত রোগ গবেষণার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রফেসর মোল্লা এমন এক প্রজন্মের বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের অংশ ছিলেন, যাদের কাজ পানিশূন্যতার চিকিৎসাব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে এবং বিশ্বব্যাপী লাখো প্রাণ রক্ষা করেছে।

ওআরএস এবং রাইস-ওআরএস উন্নয়নে তার অবদান আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে।

আইসিডিডিআর,বি’র হেড অব কমিউনিকেশন তারিফুল ইসলাম বলেন, ড. মোল্লা এমন এক উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, যা বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবাকে আজও প্রভাবিত করছে। তার কাজ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অসংখ্য জীবন উন্নত ও রক্ষা করার বৈজ্ঞানিক যাত্রার অংশ হয়ে থাকবে।

এমইউ/এসএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।