সেমিনারে বক্তারা
হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি জটিলতার প্রধান কারণ অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ
দেশে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বাড়াতে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ।
বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক গণমুখী সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি জটিলতার অন্যতম প্রধান কারণ অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ। এটি প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
‘এক সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করি; নীরব ঘাতককে জয় করি’—এ প্রতিপাদ্য নিয়ে রোববার (১৭ মে) রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী। তিনি বলেন, দেশে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি জটিলতার অন্যতম কারণ অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ। তাই এ রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সচেতনতার অভাব, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, খাদ্যে ভেজাল, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করার কারণে দেশে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা ও সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। তিনি বলেন, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম প্রধান কারণ। প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে অতিরিক্ত লবণের ব্যবহার কমাতে কার্যকর নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
হার্ট ফাউন্ডেশন দাবি করেছে, হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ফাউন্ডেশন দেশব্যাপী নানা উদ্যোগ পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইনিশিয়েটিভের (বিএইচসিআই) আওতায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি মানুষের রক্তচাপ পরীক্ষা করেছে এবং ১০ লাখের বেশি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীকে চিকিৎসাসেবার আওতায় এনেছে।
ফাউন্ডেশনের দাবি, বর্তমানে নিবন্ধিত রোগীদের ৫৯ শতাংশের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া ৩২৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে SIMPLE ডিজিটাল অ্যাপ চালুর মাধ্যমে রোগী ব্যবস্থাপনা ও ফলো-আপ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
বাংলাদেশের বিএইচসিআই মডেলকে ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন হাইপারটেনশন ২০২৫’-এ কার্যকর ও সম্প্রসারণযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এসইউজে/এমকেআর