মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবি
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবিতে যশোরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে বাংলাদেশ বাইকার অ্যাসোসিয়েশন যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন বাইকিং কমিউনিটির বাইকাররা অংশ নেন।
মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন যশোর বাইকিং কমিউনিটির অ্যাডমিন ও সংগঠনের সভাপতি এসকে সুজন। পরে অংশগ্রহণকারীরা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন যশোর বাইকিং কমিউনিটি ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের অ্যাডমিন পিয়াল, যশোর ফায়ার রাইডার্সের রাব্বি, যশোর স্কোয়াড রাইডার্সের কাজী রাকিব, ডেঞ্জারাস বাইক রাইডার্সের পিএইচ রকি, সিটি রাইডার্সের শহিদুল, ফ্রিডম বাইক রাইডার্সের সাগর ও যশোর দেশি বাইকারের কো-অর্ডিনেটর ইমরানসহ অন্যান্যরা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে ১১০-১২৫ সিসি মোটরসাইকেলের জন্য বার্ষিক দুই হাজার টাকা, ১২৬-১৬৫ সিসির জন্য পাঁচ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের জন্য ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্রস্তাবে দেশের লাখো মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে মোটরসাইকেল শুধু শখের বাহন নয়, বরং অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রাইড শেয়ার চালক ও বিভিন্ন পেশাজীবীর দৈনন্দিন যাতায়াত এবং জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নারী মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের নিরাপদ ও স্বাধীন চলাচলেও এর ভূমিকা রয়েছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত কর আরোপ সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।
তারা আরও বলেন, বৈধভাবে মোটরসাইকেল ক্রয়, রেজিস্ট্রেশন ফি, রোড ট্যাক্স, ফিটনেস, বিমা ও জ্বালানির ওপর বিদ্যমান কর পরিশোধের পর নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে।
স্মারকলিপিতে মোটরসাইকেলের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার বা যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনা, মোটরসাইকেলকে বিলাসপণ্য হিসেবে বিবেচনা না করা এবং পরিবহন খাতকে জনবান্ধব রাখার দাবিও জানানো হয়।
মিলন রহমান/এসআর/এমএস