ঢাকা ডেন্টালের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ১০ ট্রাক মালামাল পাচারের অভিযোগ

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:০৬ এএম, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে ১০ ট্রাক ভর্তি পুরনো যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল ট্রাকযোগে বাইরে পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

গত ১ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন ট্রাক ভর্তি মালামাল বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। বিভিন্ন ধরনের মালামালের মধ্যে ছিল কমপক্ষে ২০টি দামি চেয়ার ও ৮০ লিটারের স্টেরিলাইজার মেশিন। সরকারি যে কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার অযোগ্য মালামাল বিক্রি বা পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ফেলে দিতে হলে কমিটি গঠন করে মূ্ল্য নির্ধারণ কিংবা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে তা পুড়িয়ে বা ফেলে দিতে হয়। এক্ষেত্রে নিয়মকানুনের বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে ১০ ট্রাক মালামাল কলেজের বাইরে পাচার করা হয়।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নজরদারির অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. জাহিদুর রহমান। গত ৪ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে এ চিঠি দেন তিনি।

ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ কর্তৃক কয়েক ট্রাক পুরনো মাল অন্যত্র সরিয়ে ফেলার বিষয়ে নজরদারির আবেদন শীর্ষক ওই চিঠিতে তিনি লিখেন, গত ১ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর তিনদিনে প্রায় ৮-১০ ট্রাক মালামাল অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন। এই মালামাল সরিয়ে ফেলে কীভাবে রেখেছেন বা সরকারি বিধি মতো বিক্রি করেছেন কি না তা আমাকে অবহিত করেন নাই বিধায় তিনি চিন্তিত। ওই মালামালের মধ্যে পুরাতন ডেন্টাল ইউনিট যদি থাকে তবে সেজন্য ভবিষ্যতে হাসপাতালের ডেন্টাল ইউনিটের পুরাতন মালের হিসাব মেলানো কঠিন হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরাতন ডেন্টাল ইউনিটের মালামাল কলেজের সম্পত্তি। তাকে না জানিয়ে মালামাল বাইরে নিয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে বিপদে পড়ার আশঙ্কায় তিনি চিন্তিত। সঙ্গতকারণেই তিনি স্বাস্থ্য সচিবকে বিষয়টি অবহিত করেছেন।

তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন,বানোয়াট ও তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক চক্রান্তের অংশ দাবি করে কলেজের অধ্যক্ষ ডা.হুমায়ুন কবির বলেন, সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশব্যাপী ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি স্ব-উদ্যোগে কলেজের নারী হোস্টেলের অভ্যন্তরে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ দেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা চেয়ারটেবিল পড়ে থাকায় কলেজের সচিবকে ময়লা আর্বজনা দূরে কোথাও ফেলে দেয়ার নির্দেশ দেন। তার জানা মতে মাত্র একদিনই গার্ভেজ (ময়লারস্তূপ) বাইরে ফেলা হয়, তিনদিন নয়।

তিনি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ষড়যন্ত্র করছে। গতবছর প্রিন্সিপাল হিসেবে যোগদানের সময়ও তারা যোগদানে বাধার সৃষ্টি করে। এরই ধারাবাহিকতায় বদনাম করতে মালামাল বাইরে পাচার করেছি বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এমইউ/জেএইচ/এমএস