ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব পুতিনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৫৩ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন/ ফাইল ছবি: এএফপি

ইরানে চলমান বিক্ষোভ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় ইসরায়েল ও ইরানের নেতাদের সঙ্গে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) পৃথকভাবে ফোনালাপ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেসময় তিনি চলমান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্ততার প্রস্তাব দেন।

ইরান রাশিয়ার একটি কৌশলগত অংশীদার দেশ। দেশটির কট্টর মস্কোপন্থি নেতৃত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে, এমন যে কোনো সংঘাতে রাশিয়া সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, কারণ এতে মধ্যপ্রাচ্যে মস্কোর প্রভাব আরও কমে যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম প্রকাশ্যে পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করলেন পুতিন। একই সঙ্গে এটি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্য মিত্রের প্রতি রাশিয়ার প্রথম প্রকাশ্য কূটনৈতিক উদ্যোগ।

অন্যদিকে, গাজায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করায় রাশিয়া ও ইসরায়েলের সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবুও মস্কো ইসরায়েলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে রাশিয়া মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বলে জানায় ক্রেমলিন। তবে বর্তমানে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের দাবি, ইরানে সরকারবিরোধী দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এই কঠোর দমন-পীড়নের জেরে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেয়, আর যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল সেই অবস্থানকে সমর্থন জানায়।

অন্যদিকে, ইরান বরাবরই অভিযোগ করে আসছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে দেশটিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের জাতীয় ঐক্য নষ্ট করার চেষ্টা করছে।

চলতি বছরের জুন মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধ হয়। ওই সংঘাতে ইসরায়েল নজিরবিহীনভাবে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রও স্বল্প সময়ের জন্য ওই হামলায় যুক্ত হয় ও ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাশিয়া জানায়, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্দেশ্যে পুতিন উভয় দেশের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, এই অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত। উত্তেজনা কমাতে প্রেসিডেন্ট তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছেন।

এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে পুতিন রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।

ইরানের প্রেসিডেন্সি জানায়, জাতিসংঘে ইরানের প্রতি রাশিয়ার সমর্থনের জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান।

এর আগে রোববার (১১ জানুয়ারি) নেতানিয়াহু বলেছিলেন, চলমান বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে ইরান শিগগিরই ‘স্বৈরশাসনের জোয়াল’ থেকে মুক্তি পাবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দমন-পীড়ন এবং এক সপ্তাহব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে ইরানে বিক্ষোভ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে এসেছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বিক্ষোভ দমনের প্রেক্ষাপটে ইরানে হামলা চালানো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিরত রাখতে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান যৌথভাবে উদ্যোগ নেয়। ওই কর্মকর্তা বলেন, তাদের আশঙ্কা, এমন হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও তার বাইরেও‘গুরুতর প্রতিক্রিয়া’ সৃষ্টি করতে পারে।

সূত্র: এএফপি

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।