জেরুজালেমে জাতিসংঘ সংস্থার সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দিলো ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:২৩ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
ইউএনআরডব্লিউএ’র সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দিলো ইসরায়েল/ ছবি: এএফপি

পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ’র সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দিলো ইসরায়েল। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী এবং সরকারী কর্মকর্তারা দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারাহ এলাকায় ইউএনআরডব্লিউএ’র বেশ
কয়েকটি ভবন ভেঙে ফেলে। একে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ ও ফিলিস্তিনি নেতারা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নেতৃত্বে নিরাপত্তা বাহিনী বুলডোজার নিয়ে ইউএনআরডব্লিউএ’র প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ে। এরপর স্থায়ী ও অস্থায়ী ভবনগুলোতে ধ্বংস ও লুটপাট চালায়। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা একে ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন

ইউএনআরডব্লিউএ’র কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি বলেছেন, জাতিসংঘের বিরুদ্ধে এমন হামলা আগে কখনো দেখা যায়নি এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি টুইটারে লিখেছেন, ‘আজ ইউএনআরডব্লিউএর সঙ্গে যা হয়েছে, তা আগামীকাল পৃথিবীর অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা কূটনৈতিক মিশনেরও হতে পারে।’

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কঠোর ভাষায় এই ধ্বংসপ্রক্রিয়ার নিন্দা জানিয়েছেন এবং ইসরায়েলকে অবিলম্বে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ তার মতে, এই স্থানগুলো ‘জাতিসংঘের সম্পত্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনে সুরক্ষিত’।

ইউএনআরডব্লিউএ’র মুখপাত্র জনাথান ফ্লোয়ার বলেছেন, সকাল ৭টার দিকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের বের করে দেয় এবং তারপর বুলডোজার দিয়ে ভবনগুলো ভাঙা শুরু করে। সংস্থাটি একে ‘অসম্প্রদায়িক মানবিক কাজের ওপর এক অনিবার্য ও বেআইনি আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ইসরায়েল: আইন মানার দাবিতে ধ্বংসকাজ

ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ২০২৪ সালে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী ইউএনআরডব্লিউএ’র কার্যক্রম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে এবং স্থাপনাটিকে নিজেদের বলে বিবেচনা করে। ইসরায়েলের দাবি, কিছু ইউএনআরডব্লিউএ’র কর্মী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত। তবে এই অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করে আসছে জাতিসংঘ।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলি ধ্বংস কর্মকাণ্ডকে ‘স্পষ্ট বর্ধিত উত্তেজনা’ বলে উল্লেখ করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ওপর সহায়তা সরবরাহে বড় ধাক্কা দেবে এবং বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা দুর্বল করবে।

সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।