গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা ইস্যুতে রাশিয়ার কোনো উদ্বেগ নেই: পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:২৭ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা ইস্যুতে রাশিয়ার কোনো উদ্বেগ নেই/ ছবি: এএফপি (ফাইল)

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা কার তা নিয়ে রাশিয়ার কোনো উদ্বেগ নেই। তিনি বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের নিজেদের মধ্যেই সমাধান হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি দ্বীপটিতে ডেনমার্কের ঐতিহাসিক আচরণের সমালোচনা করেন।

গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগ ইউরোপের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিভাজন আরও গভীর করছে—যা রাশিয়ার জন্য এক ধরনের স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠেছে। যদিও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুর প্রভাব রাশিয়ার ওপরও পড়তে পারে, কারণ দেশটির আর্কটিক অঞ্চলে শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে।

বুধবার দাভোসে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে আসেন এবং বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেন। তিনি জানান, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ এই ভূখণ্ড নিয়ে চলমান বিরোধ মেটাতে একটি সমঝোতার দিকে অগ্রগতি হচ্ছে—যে বিরোধ ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি করতে পারতো।

এই ইস্যুতে প্রথমবার প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়ে পুতিন ইঙ্গিত দেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে রাশিয়ার কোনো আপত্তি নেই। তিনি ধারণা দেন, গ্রিনল্যান্ডের মূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার হতে পারে।

রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে পুতিন বলেন, গ্রিনল্যান্ডে কী হচ্ছে, তা আমাদের কোনোভাবেই উদ্বিগ্ন করে না।

তিনি আরও বলেন, ডেনমার্ক সবসময় গ্রিনল্যান্ডকে একটি উপনিবেশ হিসেবেই দেখেছে এবং তাদের আচরণ ছিল কঠোর—না বললেও নিষ্ঠুর। তবে সেটি ভিন্ন বিষয়, এবং এখন আর তাতে তেমন কারও আগ্রহ নেই।

ইউক্রেনকে ডেনমার্কের আর্থিক ও সামরিক সহায়তায় রাশিয়া ক্ষুব্ধ। বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, যেগুলোকে তারা ২০২২ সালে নিজেদের ভূখণ্ড বলে ঘোষণা করে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ মঙ্গলবার বলেন, বিপুল সম্পদসমৃদ্ধ এই দ্বীপডেনমার্কের স্বাভাবিক অংশ নয়।

পুতিন আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ১৮৬৭ সালে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৭২ লাখ ডলারে আলাস্কা বিক্রি করেছিল। একইভাবে ১৯১৭ সালে ডেনমার্ক ওয়াশিংটনের কাছে ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ বিক্রি করেছিল—যা এ ধরনের ভূখণ্ড হস্তান্তরের নজির হিসেবে উল্লেখ করা যায়।

পুতিন বলেন, আমি মনে করি তারা নিজেদের মধ্যেই বিষয়টি মীমাংসা করে নেবে।

সূত্র: রয়টার্স

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।