ইলহান ওমরের সম্পদ খতিয়ে দেখছে মার্কিন বিচার বিভাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৪ এএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
ওয়াশিংটন, ডিসিতে ইউএস ক্যাপিটলে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ইলহান ওমর/ ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে তোলা ছবি/ এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের সম্পদের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে)। মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস শহরে বিক্ষোভকারী অ্যালেক্স প্রেট্টি নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রশাসন যখন তীব্র সমালোচনা ও বিক্ষোভের মুখে, ঠিক সে সময়ই এমন মন্তব্য করলেন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ডিওজে ও কংগ্রেস ‘কংগ্রেসউইম্যান’ ইলহান ওমরের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে। তিনি সোমালিয়া থেকে শূন্য হাতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, আর এখন নাকি তার সম্পদের পরিমাণ ৪৪ মিলিয়ন বা ৪ কোটি ডলারেরও বেশি। সময়ই সব বলবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলহান ওমরের সম্পদের পরিমাণ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার পেছনে তার স্বামীর সম্পদের ভূমিকা রয়েছে। মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত এই কংগ্রেস সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য।

ট্রাম্পের বক্তব্যে ওমরের প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ইলহান ওমর পাল্টা আক্রমণ করেন ও অভিযোগ করেন, নিজের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার বিষয়টি আড়াল করতেই ট্রাম্প তাকে সামনে আনছেন।

এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে ওমর লেখেন, দুঃখিত ট্রাম্প, আপনার সমর্থন ভেঙে পড়ছে, আর আপনি আতঙ্কিত। তিনি আরও বলেন, আপনি ঠিক সময়েই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে নিজের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছেন। বছরের পর বছর ‘তদন্তে’ কিছুই পাওয়া যায়নি। মিনেসোটা থেকে আপনার লোকজন সরিয়ে নিন।

এর আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর আহ্বান জানিয়েছিলেন। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, ওমরের বিরুদ্ধে আর্থিক ও রাজনৈতিক অপরাধের তদন্ত হওয়া উচিত এবং সেই তদন্ত এখনই শুরু করা দরকার।

সোমালি বংশোদ্ভূত ইলহান ওমর ট্রাম্পের অন্যতম নিয়মিত নিশানা। তাকে আক্রমণ করতে ট্রাম্প প্রায়ই ইসলামবিদ্বেষী ভাষা ব্যবহার করেন। মুসলিম আমেরিকান এই কংগ্রেস সদস্য ট্রাম্পের নীতি ও বক্তব্যের কড়া সমালোচক, বিশেষ করে সোমালি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তার আক্রমণাত্মক মন্তব্যের বিষয়ে।

গত মাসে ট্রাম্প সোমালি সম্প্রদায়কে ‘আবর্জনা’ বলে অভিহিত করলে ওমর অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের তার প্রতি ‘ভীতিকর’ এক ধরনের আসক্তি রয়েছে। সে সময় তিনি বলেন, আমি আশা করি তিনি জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সাহায্য পাবেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প বারবার ইলহান ওমর ও সোমালি সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গ তুলছেন। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় মিনেসোটায় সংঘটিত কল্যাণ তহবিল আত্মসাতের একটি কেলেঙ্কারিকে সামনে আনছেন তিনি, যেখানে সোমালি অভিবাসীসহ ডজনখানেক মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত বছরের শেষ দিকে মিনেসোটা ও এর ডেমোক্র্যাট গভর্নর টিম ওয়ালজকে নিয়ে এক বক্তব্যে ট্রাম্প ওমরের মাথার স্কার্ফ নিয়েও কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ওমর সব সময় তার জড়িয়ে রাখা হিজাবের ভেতরেই থাকেন।

এদিকে, একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন মিনেসোটায় একটি কড়াকড়ি অভিবাসন অভিযান শুরু করে, যা রাজ্যের বড় সোমালি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিবাসন কর্মকর্তাদের কঠোর কৌশল দেশজুড়ে নিন্দার জন্ম দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে, নিজের গাড়ি ঘিরে ফেলা অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় তিন সন্তানের মা ও মার্কিন নাগরিক রেনে গুড গুলিতে নিহত হন।

ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে, তিনি কর্মকর্তাকে গাড়ি দিয়ে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ভিডিও ফুটেজে সে দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা যায়।

এরপরই আসে অ্যালেক্স প্রেট্টির মৃত্যুর ঘটনা। অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর তাকে একাধিকবার গুলি করা হয়। হোয়াইট হাউজ প্রেট্টিকে ‘ঘরোয়া সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেয় ও দাবি করে, তার কাছে অস্ত্র ছিল।

কিন্তু বিভিন্ন দিক থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, গুলির সময় প্রেট্টির এক হাতে মোবাইল ফোন ছিল এবং অন্য হাতটি ছিল উঁচু ও খালি।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট তুলনামূলক নরম সুরে কথা বলেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প চান না কেউ নিহত হোক। তবে তিনি জানান, এই ঘটনার তদন্ত তদারকি করবে ট্রাম্প প্রশাসন এবং প্রাণঘাতী এসব ঘটনার জন্য তিনি রাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের দায়ী করেন, যারা ফেডারেল অভিযানের বিরোধিতা করেছেন।

লেভিট বলেন, হোয়াইট হাউজের কেউই, এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও, যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় মানুষ আহত বা নিহত হোক- এটা চান না। এর মধ্যে রেনে গুড, অ্যালেক্স প্রেট্টি, ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহসী সদস্যরা ও অবৈধ অভিবাসী অপরাধীদের হাতে ক্ষতিগ্রস্ত বহু আমেরিকানও অন্তর্ভুক্ত।

ঘটনার স্বাধীন তদন্তের দাবির মধ্যেই লেভিট জানান, এই গুলির ঘটনা তদন্ত করছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ও ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। পাশাপাশি কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) আলাদা অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালাচ্ছে।

গভর্নর ওয়ালজের সঙ্গে ট্রাম্পের কথা

রেনে গুড ও অ্যালেক্স প্রেট্টি- দুজনই মিনিয়াপোলিসে নিহত হন, যার একটি অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন ইলহান ওমর। শনিবার এক বিবৃতিতে ওমর বলেন, আমাদের বাসিন্দাদের রক্ষা করার বদলে ফেডারেল এজেন্টরা তাদের টার্গেট করে হত্যা করছে- এটা ভেবে আমি ভীষণ আতঙ্কিত। তিনি ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের শহর ছাড়ার আহ্বান জানান ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সচিব ক্রিস্টি নোয়েমের অভিশংসনের দাবি তোলেন।

পরে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ট্রাম্প জানান, তিনি মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দুজনের মধ্যে অনেক বিষয়ে মিল রয়েছে।

ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লেখেন, আমি গভর্নর ওয়ালজকে জানিয়েছি, টম হোম্যান তাকে ফোন করবেন এবং আমরা যেকোনো ধরনের অপরাধীকে খুঁজে বের করতে চাই। তিনি বলেন, গভর্নর বিষয়টি সম্মানের সঙ্গে বুঝেছেন এবং শিগগিরই আবার কথা হবে।

ট্রাম্প আরও যোগ করেন, মিনেসোটার উন্নয়ন নিয়ে তিনি ও গভর্নর ওয়ালজ একই লক্ষ্য ভাগ করে নেন।

সূত্র: আল-জাজিরা

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।