প্রতিবেশীর বাড়িতে কুকুরছানা যাওয়া নিয়ে বিতণ্ডা, পরে হামলা-ভাঙচুর
শরীয়তপুরে প্রতিবেশীর বাড়িতে কুকুরছানা যাওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে কুকুরছানার মালিক।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) শরীয়তপুর পৌরসভার নিরালা আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়, ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর পৌরসভার নিরালা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা জাহানারা বেগম একটি কুকুরছানা লালন পালন করে আসছেন। ছানাটিকে ফিডারের মাধ্যমে গরুর দুধ খাইয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন। শনিবার জাহানারা বেগম বাসার বাইরে বের হলে কুকুরছানাটি সবার অগোচরে প্রতিবেশী বিল্লাল খানের বাসায় চলে যায়। এরপর বিল্লাল খান ছানাটিকে মারধর করে বেঁধে রাখেন বলে অভিযোগ জাহানারা বেগমের পরিবারের। বিষয়টি জানতে পেরে ওই বাসা থেকে কুকুর ছানাটিকে ছাড়িয়ে নিতে যান বাপ্পি। বিষয়টি নিয়ে বাড়ির মালিক বিল্লাল খানের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান তারা। পরে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি বিল্লাল খান তার আত্মীয়দের জানান। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে বিল্লাল খানের লোকজন তা উপেক্ষা করেই জাহানারা বেগমের বসতবাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
এসময় হামলাকারীরা দুটি মোটরসাইকেল ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন জাহানারা বেগম।
জাহানারা বেগম বলেন, ‘কুকুর ছানাটির মা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে এক লোক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। তখন আমি সেটি দেখে ছেলেকে দিয়ে কুকুরছানাটি আমার বাড়িতে নিয়ে আসি। ছানাটি সবার সঙ্গেই খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে। গতকাল আমি বাসায় না থাকায় কুকুরটি প্রতিবেশী বিল্লাল খানের বাড়িতে ঢুকে গেলে তারা মারধর করে। পরে আমার ছেলে সেখানে গেলে হাতাহাতি হয়। পরে তারা আবার আমার বাড়িঘরে হামলা চালায় ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
জাহানারা বেগমের ছেলে বাপ্পি বলেন, ‘বাচ্চাটি খুবই ভালো। কাউকে কামরও দেয় না। এর আগে কখনো প্রতিবেশীর বাড়িতে যায়নি। কাল গেট খোলা পেয়ে ভেতরে চলে যায়। ও তো অবলা প্রাণী, কার বাসা কোনটা বোঝে না। তাদের বাড়িতে যাওয়ায় তারা বাচ্চাটিকে মেরেছে আর জাল দিয়ে বেঁধে রেখেছে। আমি ছাড়িয়ে আনতে গেলে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। পরে তারাই আবার আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিল্লাল খান বলেন, ‘কুকুর যদি গায়ে লাগে তাহলে আবার অজু করতে হয়। বারবার কি আর অজু করা যায়? আমার ছেলে হেফজ পড়ছে। তাই আমি তাদের বলেছি কুকুরটি বেঁধে পালতে। কিন্তু তারা সেই কথা শোনেনি। কাল সেই বিষয় নিয়ে আমার ছেলের সঙ্গে এক কথায় দুই কথায় গায় হাত দেয়। অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং আমার গেটে হামলা চালায়।’
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, কুকুর যাওয়াকে কেন্দ্র করে মারামারি হাতাহাতি আর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিধান মজুমদার অনি/এসআর/এএসএম