ভারতের পরবর্তী বড় বাজার উপসাগরীয় দেশগুলো?
বাণিজ্য যুদ্ধ ও শুল্ক বাধার কারণে যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য চাপে রয়েছে, তখন উপসাগরীয় দেশগুলো ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বাজার হিসেবে উঠে আসছে। বর্তমানে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার গোষ্ঠী। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আসিয়ান এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো শীর্ষ দ্বিপাক্ষিক অংশীদারদের চেয়েও বড়।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও জিসিসি দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭৯ বিলিয়ন ডলার। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির ফলে এই বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারতের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে রত্ন ও গয়না, ধাতু, ইলেকট্রনিক্স এবং রাসায়নিক পণ্য।
এখন ভারত সৌদি আরব, ইউএই, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন—এই ছয় দেশের জোটের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সই করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
নতুন এফটিএ-এর সুবিধা
ভারত ২০২২ সালের মে মাসে ইউএই-এর সঙ্গে এফটিএ কার্যকর করে। ওমানের সঙ্গেও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সিইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। নতুন এফটিএ হলে বাকি উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমবে, ফলে ভারতের রপ্তানি আরও বাড়বে।
উপসাগরীয় অঞ্চল ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেখানে প্রায় ১ কোটি ভারতীয় বসবাস করেন।
ভারত ও জিসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে এফটিএ আলোচনার সূচনার জন্য ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ স্বাক্ষর করেছে। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, ভারত ও জিসিসি দেশগুলো ৫ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে একে অপরের সঙ্গে বাণিজ্য করে আসছে। এখন আরও শক্তিশালী ও আধুনিক বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় যাওয়ার সময় এসেছে।
গোয়াল জানান, এই চুক্তি উভয় পক্ষের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াবে এবং খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। ভারত বিশ্বে বড় খাদ্যশস্য উৎপাদক দেশ, আর জিসিসি দেশগুলো তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক।
এফটিএ হলে ভারতের পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত উপসাগরীয় বাজারে আরও বেশি সুযোগ পাবে।
জাতিসংঘের উপদেষ্টা ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফরি স্যাক্স বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলই হতে পারে ভারতের পরবর্তী বড় বাজার। তার মতে, ভারতের প্রবৃদ্ধির বড় সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন, পশ্চিম এশিয়া ও আফ্রিকায়। তাই ভারতের উচিত শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভর না করা।
ভারত উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে প্রধানত অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে। আর রপ্তানি করে মুক্তা, মূল্যবান পাথর, ধাতু, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, লোহা-ইস্পাত ও রাসায়নিক পণ্য।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের জিসিসি-এ রপ্তানি প্রায় ৫৭ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ১২১.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দাঁড়িয়েছে ১৭৮.৭ বিলিয়ন ডলার।
ইউএই ছিল ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার, সৌদি আরব পঞ্চম, কাতার ২২তম, ওমান ২৮তম, কুয়েত ২৯তম এবং বাহরাইন ৬৫তম অবস্থানে রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএসএম