ডাল-ভাতেই কি লুকিয়ে আছে ডায়াবেটিসের সমাধান?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৫৯ এএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ডাল-ভাত/ এক্স (সাবেক টুইটার) থেকে সংগৃহীত

নেপালে পশ্চিমা জাঙ্ক ফুডের প্রসারের কারণে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে খাওয়া ঐতিহ্যবাহী ডাল-ভাতের খাদ্যাভ্যাসে ফিরে গেলে এই রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হতে পারে।

দেশটিতে ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের প্রতি পাঁচজনের একজন টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। অনেকের পক্ষে নিয়মিত ওষুধ কেনা সম্ভব নয়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থেকে কিডনি রোগ, অঙ্গহানি, অন্ধত্ব এমনকি অকালমৃত্যুও হতে পারে।
কাঠমান্ডুভিত্তিক চিকিৎসক ডা. আশিষ তামাং বলেন, অনেক পরিবারের জন্য ডায়াবেটিস শুধু একটি রোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক বোঝা।

কাঠমান্ডুতে ৭০ জন দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস রোগীকে নিয়ে পরিচালিত এক পাইলট গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যালরি-নিয়ন্ত্রিত ঐতিহ্যবাহী খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে ৪৩ শতাংশ রোগী ডায়াবেটিসমুক্ত অবস্থায় যেতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে শহরের বাইরে গ্রাম ও শহরতলিতে ১২০ জনকে নিয়ে চলমান আরেকটি পরীক্ষায়ও একই ধরনের ইতিবাচক ফল মিলছে।
গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়াবেটিস ও মানব পুষ্টি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাইক লিন জানিয়েছেন, চার মাসে প্রায় অর্ধেক অংশগ্রহণকারী ডায়াবেটিসমুক্ত হয়েছেন, গড়ে মাত্র ৪-৫ কেজি ওজন কমিয়েই।

গবেষক দলটি আট সপ্তাহের জন্য প্রতিদিন ৮৫০ ক্যালরির খাদ্যতালিকা অনুসরণের পরামর্শ দেয়। এতে সকালের নাশতায় দই ও ফল এবং প্রধান খাবারে ডাল-ভাত রাখা হয়। পরে ওজন ধরে রাখতে অপেক্ষাকৃত বেশি ক্যালরির একই ধরনের খাদ্যতালিকায় যেতে বলা হয়। অংশগ্রহণকারীদের নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবার নিশ্চিত করতে মাপার কাপ ও ওজন যন্ত্র দেওয়া হয় এবং নিয়মিত সহায়ক সভায় অংশ নিতে উৎসাহিত করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে জেনেটিক কারণে তুলনামূলক কম ওজন বাড়লেও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে একই কারণে অল্প ওজন কমালেই অনেক ক্ষেত্রে রোগ নিয়ন্ত্রণে আসে। যুক্তরাজ্যে যেখানে ১০-১৫ কেজি ওজন কমাতে হয় নেপালে সেখানে প্রায় অর্ধেক কমালেই সুফল মিলছে।

গবেষকরা পশ্চিমা প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রসারকে ডায়াবেটিস বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন। ২০২৫ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, কাঠমান্ডুর দোকানে বিক্রি হওয়া প্যাকেটজাত খাবারের ৮৭ শতাংশেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত চিনি, লবণ ও চর্বির সীমা অতিক্রম করেছে।

চার বছরব্যাপী এই বিস্তৃত গবেষণা গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় ও নেপালের ধুলিখেল হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়েছে। শুরুতে যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়ন থাকলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে হাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন ১ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তা দিয়ে প্রকল্পটি চালু রেখেছে।

গবেষকদের আশা, এই খাদ্যাভ্যাস শুধু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেই নয় ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কেএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।