পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত নার্সের মৃত্যু
পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক নার্সের মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে এটিই নিপা ভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাতের নারায়ণা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, ২৫ বছর বয়সে মারা যাওয়া ওই নার্সের নাম সৌমি রায় চৌধুরী। সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ছুটি কাটাতে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
গত ৩১ ডিসেম্বর নিপা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে প্রথমে কাটোয়া হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তাকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে দুই দিন আইসিইউতে চিকিৎসা নেন।
অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ৪ জানুয়ারি বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নিজের কর্মস্থল হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল তাকে। ১১ জানুয়ারি তার নমুনা পরীক্ষায় নিপা ভাইরাস শনাক্ত হয়।
চিকিৎসকরা জানান, দীর্ঘদিন ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে থাকার ফলে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। এর সঙ্গে ফুসফুসে সংক্রমণও দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এদিকে, একই সময়ে তার এক পুরুষ সহকর্মীও নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ হয়ে গত ৩০ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান।
ঘটনার পর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি দল পশ্চিমবঙ্গে এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, খেজুরের রস না ফুটিয়ে পান করাতেই সৌমি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।
এদিকে, রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, ওই নার্স আগে নিপা ভাইরাসে পজিটিভ হয়েছিলেন। তবে তার মৃত্যুর তাৎক্ষণিক কারণ ছিল কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। চিকিৎসক এস এন পোদ্দার জানিয়েছেন, নিপা ভাইরাসের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে এক ধরনের প্রভাব পড়ে। তবে ভাইরাস নেগেটিভ হলেও দীর্ঘদিন ভেন্টিলেশনে থাকার দরুন তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। কারণ নিপা ভাইরাসের কারণে শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।
ডিডি/এসএএইচ