পেরু

‘চিফা-গেট’ কেলেঙ্কারিতে প্রেসিডেন্টের অপসারণ, ১০ বছরে ৮ বার ক্ষমতা বদল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৩৪ এএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসে জেরি/ছবি: সামাজিক মাধ্যম

রাজনৈতিক অস্থিরতার ধারাবাহিকতায় লাতিন আমেরিকার দেশ পেরুতে আবারও নেতৃত্ব পরিবর্তন হয়েছে। দেশটির জাতীয় কংগ্রেসে অনাস্থা প্রস্তাব পাস হওয়ায় দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হোসে জেরি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। প্রায় এক দশকের মধ্যে এটি পেরুর অষ্টম নেতৃত্ব পরিবর্তন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) কংগ্রেসে ৭৫–২৪ ভোটে জেরির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়। মাত্র চার মাস আগে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন জেরি। পেরুর সাধারণ নির্বাচনের দুই মাস আগে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

আগামী ১২ এপ্রিল পেরুতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে কংগ্রেস নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোট হবে।

কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ফার্নান্দো রোসপিগ্লিওসি ঘোষণা করেন, কংগ্রেসের প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য ঘোষণা করা হলো ফলে প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্টের পদও শূন্য বলে বিবেচিত হবে।

‘চিফা-গেট’ কেলেঙ্কারি

অপসারিত প্রেসিডেন্ট জেরির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি রাষ্ট্রীয় অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যাবসায়িক সুবিধা পাওয়া চীনা ব্যবসায়ী ঝিহুয়া ইয়াংয়ের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। ইয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করতে জেরি হুডি পরে লিমার একটি চীনা রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করেছেন বলে প্রমান রয়েছে। আরেকবার জেরি একটি চীনা পণ্যের দোকানে ইয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকগুলোর কোনোটি প্রেসিডেন্টের সরকারি নথিতে উল্লেখ ছিল না।

পেরুতে এ কেলেঙ্কারিকে ‘চিফা-গেট’ কেলেঙ্কারি নামে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ‘চিফা’ শব্দটি পেরুভিয়ান-চীনা খাবারের প্রচলিত নাম।

দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। তবে জেরি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, বৈঠকগুলো ছিল আকস্মিক এবং সেখানে কোনো ধরনের সুবিধা বা সহায়তার অনুরোধ করা হয়নি।

গত মাসে জেরি প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে বলেছেন, ‘আমি স্বীকার করছি যে হুডি পরে প্রবেশ করা ভুল ছিল। এতে আমার আচরণ নিয়ে সন্দেহ ও ভিত্তিহীন গল্পের জন্ম হয়েছে।’

চীন পেরুর অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নাস্তানাবুদ পেরু। এর মধ্যেই সামনে এলো প্রেসিডেন্টের এই কেলেঙ্কারি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টার্ন হেমিস্ফিয়ার অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, পেরুর অন্যতম বৃহৎ বন্দর চানকাই চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ মালিকানা আগ্রাসী বিনিয়োগ কৌশল-এর উদাহরণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছে, সস্তা চীনা অর্থ পেরুর সার্বভৌমত্বের জন্য ব্যয়বহুল হতে পারে।

পেরুর প্রেসিডেন্সি নিয়ে বহু বছর ধরেই দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির ইতিহাস রয়েছে। ২০০০ সালের পর থেকে অন্তত সাতজন প্রেসিডেন্ট দুর্নীতি বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বিচার বা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। পুলিশি অভিযানের মুখে দেশটির একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট আত্মহত্যাও করেছিলেন। দুর্নীতি তদন্তের সময় আত্মহত্যা করা ওই প্রেসিডেন্টের নাম আলান গার্সিয়া।

২০০০ সালে গোয়েন্দা প্রধানকে ঘিরে কেলেঙ্কারির পর প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরি ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর আলেহান্দ্রো তোলেদো ঘুষ নেওয়ার দায়ে ২০ বছরের বেশি কারাদণ্ড পান।

সূত্র: সিএনএন

কেএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।