সংসদ সদস্যদের পেনশন বাতিল করলো শ্রীলঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:০৪ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংসদে ২০২৬ সালের বাজেট উপস্থাপনের পর শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে (বামে) ও প্রধানমন্ত্রী হারিণী অমরাসুরিয়া/ ৭ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে তোলা ছবি/ এএফপি

সংসদ সদস্যদের (এমপি) পেনশন বাতিল করলো শ্রীলঙ্কা। এখন থেকে দেশটির কোনো সাবেক এমপি ও প্রয়াত এমপিদের স্ত্রী আর পেনশন পাবেন না। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শ্রীলঙ্কান সংসদে এ সংক্রান্ত বিল পাস হয়।

জানা গেছে, রাজনীতিকদের সুবিধা কমানোর সরকারি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংসদে এ বিষয়ে ভোটাভুটির আগে ন্যায়বিচারমন্ত্রী হর্ষনা নানায়াক্কারা বলেন, মানুষ যখন এই সংসদে বিতর্কের মান আর সদস্যদের কথাবার্তা দেখেন, তখন মনে করেন না যে সংসদ সদস্যরা পেনশন পাওয়ার যোগ্য।

শ্রীলঙ্কা প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকের নেতৃত্বাধীন বামপন্থি সরকার ৪৯ বছরের পুরোনো সংসদীয় পেনশন আইন বাতিল করলো। এর আগে কয়েক মাসের মধ্যেই সাবেক প্রেসিডেন্টদের বাসভবন, যানবাহন ও হাজারের বেশি দেহরক্ষীর সুবিধাও প্রত্যাহার করে তার সরকার।

২২৫ সদস্যের এই সংসদে সরকারদল দুই-তৃতীয়াংশ আসনের মালিক। তারা পেনশন আইন বাতিলে ১৫৪টি ভোট দেয়, বিরোধিতা করেন মাত্র দুই জন।

বিরোধীদলীয় নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা আপত্তি তুলে বলেন, পদত্যাগের পর আইনপ্রণেতাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেনশন অপরিহার্য। অন্যথায়, অবসরের পর নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের দিকে ঝুঁকে যাবেন।

আগের আইনে সংসদ সদস্যরা মাত্র পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করলেই পেনশনের যোগ্য হতেন, যেখানে অন্য সরকারি কর্মচারীদের এই সুবিধার জন্য ১০ বছর চাকরি করতে হতো।

গত বছরের সেপ্টেম্বর সরকার সাবেক নেতাদের বিশেষ সুবিধা বাতিলে আইন প্রণয়ন করে। এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকে সরকারি বাংলো ছাড়ার অনুরোধ জানানো হলেও তিনি তা মানেননি।

শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্টরা বিলাসবহুল যানবাহন, সরকারের জ্বালানি সহায়তা, দাপ্তরিক কর্মী ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী ছিলেন। এখন এসব সুবিধা ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে।

২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় মাহিন্দা রাজাপাকসে একটি সরকারি বাসভবন সংস্কারে প্রায় ৮০০ কোটি রুপি (প্রায় আড়াই কোটি ডলার) সরকারি অর্থ ব্যয় করেছিলেন বলে জানা যায়। তার ছোট ভাই সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ২০২২ সালে দুর্নীতির দায়ে পদত্যাগের পর অল্প সময় ওই সরকারি বাংলোয় থাকার পর সেটি খালি করে দেন।

এসব বাসভবনের বেশির ভাগই নির্মিত হয়েছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে লন্ডন থেকে আসা উচ্চপদস্থ প্রশাসকদের জন্য।

সূত্র: ডেইলি মিরর (শ্রীলঙ্কা), এনডিটিভি

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।