বন্ধ চিকিৎসার সুযোগ

রমজানের প্রথম দিনেই গাজায় শিশুসহ দুজনকে হত্যা করলো ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৪৫ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২০ বছর বয়সী মুহান্দ জামাল আল-নাজ্জারের মরদেহ ঘিরে স্বজনদের আহাজারি/ ছবি: এএফপি

চলতি বছর রমজানের প্রথম দিনেই বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) গাজায় এক শিশু ও এক তরুণসহ দুজনকে হত্যা করলো দখলদার ইসরায়েল। একই সঙ্গে আংশিকভাবে খুলে দেওয়া রাফাহ সীমান্ত দিয়ে চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে চাওয়া হাজারো মানুষকে আটকে রেখেছে ইসরায়েল। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান ইসরায়েলের গণহত্যামূলক অভিযানের মধ্যেই এ দমবন্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর গাজায় নিজেদের বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি দেখতে যাওয়ার পথে শিশুদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল। এই হামলায় এক শিশু ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। অন্যদিকে, গাজার দক্ষিণে খান ইউনুসের পূর্বদিকে বানি সুহেইলা গোলচত্বরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত হন ২০ বছর বয়সী মুহান্দ জামাল আল-নাজ্জার। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গাজার হাসপাতাল সূত্র জানায়, মধ্য গাজার আল-মুঘরাকা এলাকায় ও দক্ষিণের রাফাহ শহরের আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি গুলিতে আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

এদিকে, গাজা থেকে চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে চাওয়া হাজারো মানুষের কাতর অপেক্ষা চলছেই। আংশিকভাবে পথ খুললেও বাস্তবে রাফাহ পারাপারে কঠোর বাধা বজায় রেখেছেন ইসরায়েলি সেনারা।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের (ওসা) হিসাব অনুযায়ী, আড়াই সপ্তাহ আগে আংশিকভাবে পথ খোলার পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজা থেকে মাত্র ২৬০ রোগী বের হতে পেরেছেন। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার ৫০০, তার তুলনায় এটি অত্যন্ত সামান্য।

মিশরীয় সীমান্ত কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রথম দিন থেকেই প্রতিদিন দুদিকে অন্তত ৫০ জন ফিলিস্তিনি পারাপার করতে পারবেন। বাস্তবে প্রথম দিন মাত্র পাঁচজন রোগীকেই যেতে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ মানবাধিকার ও চিকিৎসাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার দাবি তুলছে যে গুরুতর অসুস্থ ফিলিস্তিনিদের যেন অবিলম্বে গাজার বাইরের চিকিৎসা কেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়েসুস এ মাসের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, পশ্চিম তীর বিশেষ করে, পূর্ব জেরুজালেমে চিকিৎসার পথ অবিলম্বে খুলে দিতে হবে ও গাজার বাইরে যেসব দেশে বিশেষায়িত চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব, তাদেরও রোগী গ্রহণে এগিয়ে আসা উচিত। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপ গাজা কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে

সীমান্তে ফিরে আসার পথও ধীরগতি, হচ্ছে অপমানজনক তল্লাশি

ওসার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৬৯ জন গাজায় ফিরে এসেছেন। গত সপ্তাহে ৪১ জনকে নাসের চিকিৎসা কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তাদের বক্তব্য, সীমান্তে ইসরায়েলি সেনারা তাদের অপমানজনকভাবে তল্লাশি ও কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

এর আগেও ফিরে আসা অনেকেই অভিযোগ করেছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের চোখ বাঁধা হয়েছিল, ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাজনৈতিক প্রশ্ন, মানসিক চাপ- সব সয়ে তবেই গাজায় ফিরতে দেওয়া হয়।

গত বছরের অক্টোবরে কার্যকর তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতির’ পর থেকে এখন পর্যন্ত ছয় শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও এক হাজার ছয় শতাধিক। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সপ্তাহের শুরুতে এই সর্বশেষ হিসাব প্রকাশ করেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।