ভারতে ৩৩ শিশুকে যৌন নির্যাতনের দায়ে দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২১ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দণ্ডিত রাম ভবন ও তার স্ত্রী দুর্গাবতী/ ছবি: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ভারতে এক দশক ধরে ৩৩ শিশুকে যৌন নির্যাতন ও তার ভিডিও ডার্ক ওয়েবে বিক্রির দায়ে এক দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) উত্তর প্রদেশের একটি আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

বান্দার পকসো আদালতের অতিরিক্ত জেলা জজ পি. কে. মিশ্র এই অপরাধকে ‘বিরল থেকে বিরলতম’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অপরাধীদের সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই। ন্যায়বিচারের স্বার্থে সর্বোচ্চ সাজাই কাম্য।

দণ্ডিত আসামিরা হলেন উত্তর প্রদেশের জলকল বিভাগের সাবেক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার রাম ভবন (৫০) এবং তার স্ত্রী দুর্গাবতী (৪৭)।

আরও পড়ুন>>
ভারতে এক বছরে ২০ হাজার কন্যাশিশুকে ধর্ষণ
ভারতে স্কুলে যাওয়ার পথে দলিত কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ
ভারতে বাসের ভেতরে ধর্ষণ, ১০০ মিটারের মধ্যেই ছিল পুলিশ স্টেশন

আদালত সূত্রে জানা যায়, এই দম্পতি তিন থেকে ১৩ বছর বয়সী অন্তত ৩৩ শিশুকে যৌন নির্যাতন করেন। ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বান্দা ও চিত্রকূট জেলায় এই পাশবিকতা চালানো হয়।

শিশুদের অনলাইন ভিডিও গেম খেলার প্রলোভন, টাকা এবং উপহার দিয়ে ফাঁদে ফেলতেন তারা। নির্যাতিত শিশুদের ভিডিও ও ছবি অন্তত ৪৭টি দেশের গ্রাহকদের কাছে ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে বিক্রি করতেন এই দম্পতি।

আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, শিশুদের ওপর এতটাই ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছে যে, অনেককে যৌনাঙ্গের ক্ষতের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। এমনকি দীর্ঘদিনের অত্যাচারে কিছু শিশুর চোখে ট্যারাভাব তৈরি হয়েছে। এই শিশুদের মানসিক ট্রমা কাটাতে দিল্লির এইমস চিকিৎসকদের সহায়তা নিয়েছে সিবিআই।

যেভাবে ধরা পড়লো চক্র

২০২০ সালে ডার্ক ওয়েবে শিশু যৌন নির্যাতনের কন্টেন্ট ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি ইন্টারপোলের নজরে আসে। ইন্টারপোলের তথ্যের ভিত্তিতে সিবিআই তদন্ত শুরু করে এবং ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর এফআইআর দায়ের করে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

আরও পড়ুন>>
ভারতে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা
ইসরায়েলি পর্যটককে দলবদ্ধ ধর্ষণ, সঙ্গীকে হত্যা: ভারতে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
বছরের প্রথম ১৫ দিনেই দিল্লিতে নিখোঁজ ৮০৭ জন, নারী ৫ শতাধিক

সাজাপ্রাপ্ত দম্পতিকে পকসো আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। প্রত্যেক ভুক্তভোগী শিশুকে ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে উত্তর প্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি কমল সিং গৌতম বলেন, ভুক্তভোগী শিশুরা এখনো ভয়াবহ মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল প্রমাণ এবং শিশুদের সাক্ষ্যই এই কঠোর সাজা নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।