জ্বালানি সংকটের কারণে এশিয়াজুড়ে জরুরি পদক্ষেপ
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের ওপর। কারণ মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়ার দেশগুলো প্রায় ৬০ শতাংশ তেল আমদানি করে। ফলে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় বিভিন্ন দেশ জরুরি পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহ সীমিত করায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
ভারত জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে শিল্পখাতে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরিয়ে তা গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার একাধিক মিতব্যয়ী পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুল বন্ধ রাখা এবং অনেক সরকারি সেবা অনলাইনে স্থানান্তর করা।
দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো জ্বালানির দামে সীমা নির্ধারণ (ফুয়েল প্রাইস ক্যাপ) আরোপ করেছে। একই সঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালির বাইরে বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চীন আগামী পাঁচ বছরে কার্বন নির্গমন কমানোর গতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
এদিকে ভিয়েতনাম কোম্পানিগুলোকে কর্মীদের দূর থেকে কাজ (রিমোট ওয়ার্ক) করার সুযোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছে।
থাইল্যান্ড সরকার কর্মচারীদের জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বিদেশ সফর স্থগিত এবং বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।
ফিলিপাইনস সরকারি কর্মীদের ভার্চুয়াল সভা করার পরামর্শ দিয়েছে। দেশটি এরই মধ্যে কিছু সরকারি দপ্তরে সাময়িকভাবে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে এবং অফিসের এয়ার কন্ডিশনের তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না নামানোর নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছে, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য ও সারের দাম দ্রুত বেড়ে যাবে, যা এশিয়ার দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: সিএনএন
এমএসএম