অন্তত ৬ মাস পর্যন্ত যুদ্ধ মোকাবিলায় প্রস্তুত ইরান: আব্বাস আরাঘচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৫২ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি/ছবি: তাসনিম এজেন্সি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে ইরান। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতেও সক্ষম দেশটি। বুধবার ( ১ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এমন কথা বলেছেন।

আরাঘচি বলেন, তেহরান সময়সীমার দিকে নজর দেয় না এবং যে কোনও পরিস্থিতিতে দেশটি নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

আল জাজিরার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিয়েছে এবং আলোচনা চলছে বলা ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি সঠিক নয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কূটনৈতিক আলোচনার অর্থ হলো দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বসে চুক্তি করার প্রক্রিয়া, যা বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নেই। তবে, বার্তা বিনিময় হয় কিছু প্রায়শই মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে, যা আলোচনা নয়।

ইরানের স্পষ্ট অবস্থান

দেশটি সীমিত স্থগিত যুদ্ধ বা অস্থায়ী বিরতির শর্তে সন্তুষ্ট নয়। যুদ্ধ বন্ধ করার শর্ত হলো পুরো অঞ্চলজুড়ে সংঘাতের সমাপ্তি এবং যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি রোধের নিশ্চয়তা এবং ক্ষতিপূরণ।

আরাঘচি বলেন, ইরানের লক্ষ্য হলো জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। বর্তমানে এটি হচ্ছে বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। প্রয়োজন হলে অন্য সব কৌশলও ব্যবহার করা হবে।

স্ট্রেইট অব হরমুজ সম্পর্কেও তিনি বলেন, এটি ইরান ও ওমানের অভ্যন্তরীণ জলসীম এবং যুদ্ধকালীন অবস্থায় শত্রু দেশগুলোকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তবে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জন্য নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

যুদ্ধ সম্প্রসারণ বা স্থল অভিযান সম্পর্কেও তিনি জানান, ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং শত্রুর জন্য তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ইরান যুদ্ধ শুরু করেনি, তবে দৃঢ় প্রতিরক্ষা এবং শত্রুর শক্তি ক্ষয় করছে।

তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন, যুদ্ধ শুরু করেছে তারা কিন্তু এখন আমাদের বিরুদ্ধে নিন্দা করছে, আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার অভিযোগ দেয়। ইরান সবসময়ই প্রতিবেশী দেশের প্রতি সম্মান বজায় রেখেছে।

শেষ পর্যন্ত আরাকচি বলেন, ভবিষ্যতে পারস্পরিক বিশ্বাস পুনর্নির্মাণ কঠিন হলেও সম্ভব। এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সহযোগিতা অপরিহার্য, এবং বিদেশি ঘাঁটিতে নির্ভরতা কমাতে হবে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

কেএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।