অভিবাসী বহনকারী নৌকাডুবি, ২৫০ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১৭ এএম, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
ছবি: এএফপি (ফাইল)

অভিবাসীদের বহনকারী একটি নৌকাডুবির ঘটনায় ২৫০ জন নিখোঁজ রয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী ও অভিবাসন সংস্থার তথ্যমতে, গত সপ্তাহে আন্দামান সাগরে একটি নৌকাডুবির ঘটনায় শিশুসহ প্রায় ২৫০ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নিখোঁজ হয়েছে। খবর বিবিসির।

সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলার ‌‘প্রবল বাতাস, উত্তাল সমুদ্র এবং অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ডুবে গেছে’।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, গত ৯ এপ্রিল তাদের একটি জাহাজ ওই নৌকাটি থেকে নয়জনকে উদ্ধার করেছে। তবে নৌকাটি ঠিক কখন ডুবেছে সে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।

২০১৭ সালের মারাত্মক দমনপীড়নের পর থেকে মিয়ানমারের কয়েক লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বৌদ্ধ-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মিয়ানমার সরকার এই রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিজ দেশে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া অনেক রোহিঙ্গা এখন উন্নত জীবনের আশায় জাহাজে করে মালয়েশিয়ার দিকে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা করছে। মালয়েশিয়াকে কেউ কেউ এই অঞ্চলের একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কল্পনা করে।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া রফিকুল ইসলাম নামের একজন এএফপিকে বলেন, উদ্ধার হওয়ার আগে তিনি প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ধরে ভাসছিলেন। তিনি আরও জানান, জাহাজ থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ায় তার শরীর দগ্ধ হয়েছে। ৪০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বলেন, মালয়েশিয়ায় চাকরির আশ্বাসই তাকে ওই নৌকায় উঠতে বাধ্য করেছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে যৌথভাবে জারি করা এক বিবৃতিতে বলেছে, এই মর্মান্তিক ঘটনা রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এবং টেকসই সমাধানের অভাবের ভয়াবহ পরিণতিকে প্রতিফলিত করে।

এই নৌকাগুলো প্রায়ই ছোট এবং সংকীর্ণ হয় যেখানে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের মতো মৌলিক সুবিধার অভাব থাকে। তারা সবসময় তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। কেউ কেউ সমুদ্রে মারা যায়, আবার অন্যদের কখনো কখনো আটক বা ফেরত পাঠানো হয়।

টিটিএন

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।