বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে ২৪ শতাংশ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে ২০২৬ সালে জ্বালানি পণ্যের দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বাড়তে পারে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিশ্বব্যাংক এ পূর্বাভাস দিয়েছে। একই সঙ্গে সামগ্রিক পণ্যের (কমোডিটি) দাম ১৬ শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রকাশিত তাদের সর্বশেষ কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক জানায়, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে তেল সরবরাহে রেকর্ড পরিমাণ ধাক্কা (সাপ্লাই শক) তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৩৫ শতাংশ সরবরাহ করে। এর ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ প্রাথমিকভাবে দৈনিক প্রায় ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) ব্যারেল কমে গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সার (ফার্টিলাইজার) পণ্যের দাম ৩১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যার পেছনে ইউরিয়ার দাম ৬০ শতাংশ বৃদ্ধিই প্রধান কারণ। এছাড়া অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও টিনসহ বেস মেটালের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদা বাড়ায় মূল্যবান ধাতুর দামও ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যদি সংঘাত আরও বাড়ে বা সরবরাহ বিঘ্ন দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।
বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিকস বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইনদারমিত গিল বলেন, এই যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধারাবাহিকভাবে আঘাত হানছে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীই এর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায় এবং এর জবাবে ইরান পাল্টা আক্রমণ করে। দীর্ঘ ৩৯ দিনের যুদ্ধ শেষে গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি চলছে।
ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২,৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।
কেএম