গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে তিন ধাপ পেছালো বাংলাদেশ
চলতি বছর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের তিন ধাপ অবনতি হয়েছে। এ বছর বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম, গত বছর এই অবস্থান ছিল ১৪৯তম। তালিকায় বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারত ৩১ দশমিক ৯৬ স্কোর নিয়ে ১৫৭ তম স্থানে ও পাকিস্তান ৩২ দশমিক ৬১ স্কোর নিয়ে ১৫৩ তম স্থানে রয়েছে।
৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এ বছরও ‘বৈশ্বিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক’ প্রকাশ করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স বা আরএসএফ।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, অধিকার ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক এই সংগঠনের সূচক অনুযায়ী ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে এবং গত বছরের চেয়ে পিছিয়েছে তিন ধাপ।
আরএসএফএর তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বেই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্ব সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সূচকের ইতিহাসে প্রথমবারের মত অর্ধেকেরও বেশি দেশ ‘কঠিন’ অথবা ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ পর্যায়ে যুক্ত হয়েছে।
সংগঠনটি বলেছে, গত ২৫ বছরের মধ্যে সূচকে অন্তর্ভুক্ত ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলের গড় স্কোর এর আগে কখনো এত নিচে নামেনি।
আরএসএফ তাদের বিশ্লেষণে বলছে, ২০০১ সাল থেকে ক্রমেই কড়াকড়ি হয়ে ওঠা আইনি ব্যবস্থার বিস্তার- বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে যুক্ত আইনগুলো ধীরে ধীরে তথ্য জানার অধিকারকে ক্ষয় করে যাচ্ছে। এমনকি গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও এটা ঘটছে।
আমেরিকা মহাদেশে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে; যুক্তরাষ্ট্র সাত ধাপ নেমে গেছে ও লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশ সহিংসতা ও দমনপীড়নের আরও গভীর চক্রে ঢুকে পড়েছে।
কীভাবে স্কোরিং হয় এবং বাংলাদেশের স্কোর কত?
আরএসএফ প্রতিবছর একটি সূচক প্রকাশ করে যেখানে দেখার চেষ্টা করা হয়, সাংবাদিকরা কতটুকু স্বাধীনতা ভোগ করতে পারছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আইনি কাঠামো, অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট এবং নিরাপত্তা– এই পাঁচটি দিক থেকে প্রতিটি দেশ বা অঞ্চলের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বাস্তব পরিস্থিতি ও বিভিন্ন জটিলতা উঠে আসে বলে আরএসএফ দাবি করে।
প্রতিটি সূচকের জন্য শূন্য থেকে ১০০ পর্যন্ত একটি সহায়ক স্কোর গণনা করা হয়।
যেসব দেশ ৮৫ থেকে ১০০ পয়েন্ট পায় তারা ‘ভালো’ (সবুজ); ৭০ থেকে ৮৫ পয়েন্ট ‘সন্তোষজনক’ (হলুদ); ৫৫ থেকে ৭০ পয়েন্ট ‘সমস্যাযুক্ত’ (হালকা কমলা); ৪০ থেকে ৫৫ পয়েন্ট ‘কঠিন’ (গাঢ় কমলা) ও শূন্য থেকে ৪০ পয়েন্ট যারা যায় তাদের ‘খুব গুরুতর’ (গাঢ় লাল) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
এ বছর বাংলাদেশের স্কোর দেখানো হয়েছে ৩৩ দশমিক শূন্য পাঁচ। গতবছর যা ছিল ৩৩ দশমিক ৭১।
গতবছর ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪৯তম অবস্থানে ছিল, যেখানে এবার তিন ধাপ পিছিয়ে ১৫২তম অবস্থানে রয়েছে দেশটি।
যেসব দেশের পয়েন্ট বেশি সেগুলো তালিকার শুরুতে ও যেসব দেশের পয়েন্ট কম, অর্থাৎ সাংবাদিকরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে আছেন সেসব দেশ তালিকার নিচের দিকে থাকে।
এবছর তালিকার ১ নম্বর অবস্থনে রয়েছে নরওয়ে ও ১৮০টি নম্বরে আছে ইরিত্রিয়া। নরওয়ের স্কোর ৯২ দশমিক ৭২ এবং ইরিত্রিয়ার ১০ দশমিক ২৪।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
এসএএইচ