চীনকে ‘ঝগড়াটে মাছওয়ালা’ বলে খোঁচা দিলো তাইওয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:২৩ পিএম, ০৩ মে ২০২৬
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে/ ছবি: এক্স (পূর্বে টুইটার) থেকে সংগৃহীত

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকে ‘ইঁদুর’ বলে কটাক্ষ করেছে চীন। এর জবাবে চীনা কর্তৃপক্ষকে ‘ঝগড়াটে মাছওয়ালা’ বলে পাল্টা খোঁচা দিয়েছে তাইপে। এই তীব্র বাকযুদ্ধের মধ্যেই আফ্রিকার দেশ ইসোয়াতিনি সফরে গিয়ে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত থাকার অধিকার নিয়ে জোরালো বার্তা দিয়েছেন তাইওয়ানের এই নেতা।

রোববার (৩ মে) তাইওয়ানিজ প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ইসোয়াতিনির রাজা মস্বাতি তৃতীয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এসময় তিনি বলেন, তাইওয়ান বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পূর্ণ অধিকার রাখে ও কোনো দেশই তা থামাতে পারে না। এই সফরটি ছিল আকস্মিক, যা থামানোর চেষ্টা করেছিল বেইজিং- এমনটাই দাবি তাইপের।

চীন মনে করে গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ান তাদের ভূখণ্ডের অংশ ও দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক গড়ার কোনো অধিকার দ্বীপটির নেই। তবে তাইওয়ানের সরকার এই অবস্থান জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। বেইজিং বিভিন্ন দেশকে তাইওয়ানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করার আহ্বানও জানিয়েছে।

গত মাসে তাইওয়ান অভিযোগ করে, চীন ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তিনটি দেশকে চাপ দিয়ে প্রেসিডেন্ট লাইয়ের বিমানের আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করায়। লাই চিং-তের তখন দক্ষিণ আফ্রিকার ছোট রাজতান্ত্রিক দেশ ইসোয়াতিনিতে রাজা মস্বাতি তৃতীয়ের সিংহাসনে আরোহণের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে যাওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে মাত্র ১২টি দেশের একটি এই ইসোয়াতিনি।

লাই চিং-তে রাজাকে বলেন, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র ও বিশ্বের অংশ। এটির ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের বিশ্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অধিকার রয়েছে ও কোনো দেশেরই সেই অধিকার ঠেকানোর অধিকার নেই- এমন চেষ্টা করা উচিতও নয়।

শনিবার (২ মে) সাবেক সোয়াজিল্যান্ড নামে পরিচিত, প্রায় ১৩ লাখ জনসংখ্যার দেশ ইসোয়াতিনিতে পৌঁছান লাই চিং-তে। সফরের বিষয়ে আগে থেকে কোনো ঘোষণা দেননি দুই দেশের কেউই। তিনি ইসোয়াতিনি সরকারের একটি উড়োজাহাজে করে সেখানে যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাইওয়ানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, আগে পৌঁছে পরে ঘোষণা- এই কৌশলটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে প্রায়ই ব্যবহার করা হয়, যাতে বাহ্যিক শক্তির সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের ঝুঁকি কমানো যায়।

শনিবার (২ মে) রাতেই চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর এক বিবৃতিতে লাই চিং-তের সফরকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে। তারা দাবি করে, তিনি গোপনে ইসোয়াতিনিতে ঢুকেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, লাই চিং-তের নিকৃষ্ট এই আচরণ রাস্তা দিয়ে ছুটে যাওয়া ইঁদুরের মতো। এটি অবশ্যই আন্তর্জাতিক মহলের উপহাসের মুখে পড়বে।

এর জবাবে তাইওয়ানের চীন নীতি নির্ধারণী সংস্থা মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল জানায়, কোথাও যেতে লাইয়ের বেইজিংয়ের অনুমতির প্রয়োজন নেই। সংস্থাটি আরও কড়া ভাষায় বলে, চীনের তাইওয়ান অ্যাফেয়ার্স অফিসের এই ‘মাছওয়ালার মতো ঝগড়াটে ভাষা’ চরম বিরক্তিকর।

গত মাসে আকাশপথ সংকটের কারণে লাইয়ের সফর পরিকল্পনা বাতিল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র চীনের সমালোচনা করেছিল। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

সূত্র: রয়টার্স

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।