আকাশে রহস্যময় আলোর রেখাটি ছিল ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার
উড়িষ্যার আকাশে গত ৮ মে সন্ধ্যায় হঠাৎ দেখা যায় এক রহস্যময় উজ্জ্বল আলোর রেখা। শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশের কক্সবাজার-মাদারীপুর থেকেও দেখা গেছে সেই দৃশ্য। বিরল এই ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল ও জল্পনা শুরু হয়।
পরে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এটি কোনো মহাজাগতিক বস্তু ছিল না। এটি ছিল দেশটির পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম অত্যাধুনিক ‘অগ্নি’ সিরিজের একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা। উড়িষ্যার ড.টর এপিজে আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে গত বৃহস্পতিবার এই পরীক্ষা চালানো হয়।
তারা জানায়, এটি ছিল অগ্নি ক্ষেপণাস্ত্রের একটি উন্নত সংস্করণ, যা ‘মাল্টিপল ইনডিপেনডেন্টলি টার্গেটেড রিঅ্যান্ট্রি ভেহিকেল’ (এমআইআরভি) প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো, একটি মাত্র ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিশাল ভৌগোলিক এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানা সম্ভব।
আরও পড়ুন>>
কক্সবাজারের আকাশে ‘মিসাইল সদৃশ আলো’, জনমনে আতঙ্ক-কৌতূহল
মাদারীপুরের আকাশেও রহস্যময় আলো
ক্ষেপণাস্ত্রটির সুনির্দিষ্ট মডেলের নাম প্রকাশ না করলেও ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আগে থেকে নির্ধারিত একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে এটি সফলভাবে আঘাত হেনেছে। উপকূলীয় এবং জাহাজভিত্তিক বিভিন্ন ট্র্যাকিং সিস্টেম ও টেলিমেট্রি স্টেশনের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ থেকে শুরু করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা পর্যন্ত পুরো পথ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। মিশনের সমস্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ভারত।
এর আগে, ২০২৪ সালের ১১ মার্চ ভারত প্রথমবারের মতো নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এমআইআরভি ক্ষমতাসম্পন্ন ‘অগ্নি-৫’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছিল। তবে গত বৃহস্পতিবারের পরীক্ষার পাল্লা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। যদিও বঙ্গোপসাগরে ৬ থেকে ৯ মে পর্যন্ত জারি করা ‘নোট টু মেরিনার্স’ (নটমার) অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ছিল প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কিলোমিটার।
ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) ল্যাবরেটরিতে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা প্রত্যক্ষ করেন ডিআরডিওর শীর্ষ বিজ্ঞানী এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
কেএএ/