‘বিজয় ঝড়ে’ তছনছ এআইএডিএমকে, বিদ্রোহে টালমাটাল বিরোধী শিবির
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘ ৬২ বছরের প্রথা ভেঙে অভিনেতা বিজয়ের নাটকীয় উত্থান শুধু ডিএমকের দুর্গেই হানা দেয়নি, বরং ধস নামিয়েছে রাজ্যের অন্যতম প্রধান শক্তি এআইএডিএমকেতে। বুধবার (১৩ মে) বিধানসভায় আস্থা ভোটে বিজয়ের বড় জয়ের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে জয়ললিতার হাতে গড়া দল এআইএডিএমকের প্রকাশ্য ভাঙন।
বিদ্রোহী বিধায়কদের ‘বিজয়’ উল্লাস
এআইএডিএমকে প্রধান ইদাপ্পাদি পালানিস্বামী (ইপিএস) দলের বিধায়কদের কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিজয়ের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য। কিন্তু ভোটাভুটির সময় দেখা যায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। দলের মোট বিধায়কদের অর্ধেকের বেশি, অর্থাৎ ২৪ জন বিধায়ক দলীয় নির্দেশ অমান্য করে বিজয়ের পক্ষে ভোট দেন। আরও একজন বিধায়ক ভোটদানে বিরত থেকে প্রকারান্তরে বিজয়কেই সমর্থন জানান। পালানিস্বামীর পক্ষে টিকে ছিলেন মাত্র ১৭ জন বিধায়ক।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অন্যতম নেতা সি ভি শানমুগাম ও এস পি ভেলুমানি দীর্ঘদিন ধরেই দলের বর্তমান নেতৃত্বের ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন। বুধবার ভোট শেষে শানমুগাম সরাসরিই বলেন, ‘টানা চারটি নির্বাচনে হারার পর আমাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আমরা আর পরাজয়ের অংশীদার হতে চাই না।’
আরও পড়ুন>>
মুখ্যমন্ত্রী হয়েই বিজয়ের নির্দেশ, ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ফ্রি
২৯ বছর বয়সেই মন্ত্রী, বিজয়ের দলে কে এই তরুণী?
তামিলনাড়ুতে ৭০০’রও বেশি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ বিজয়ের
মূলত ২০১৬ সালে জয়ললিতার মৃত্যুর পর থেকেই দলটি নেতৃত্বের সংকটে ভুগছিল। বিজয়ের নতুন ও গতিশীল রাজনীতিকে অনেক বিধায়কই ভবিষ্যতের আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এআইএডিএমকের উত্থান-পতন
২০০৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে রাজত্ব করেছে এআইএডিএমকে। দলটির এই সাফল্যের রূপকার ছিলেন কিংবদন্তি নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জে জয়ললিতা। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে তার মৃত্যুর পর থেকেই মূলত পতনের শুরু। সে বছর জয়ললিতার প্রতি জনগণের প্রবল সহমর্মিতার ঢেউয়ে দলটি নির্বাচনে জিতলেও পরে আর সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ডিএমকের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় তারা।
গত মাসের নির্বাচনে পরাজয় বর্তমান নেতা ই পালানিস্বামীর (ইপিএস) নেতৃত্বকে বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, দলের মঙ্গলের চেয়ে নিজের এবং তার ঘনিষ্ঠ বলয়ের রাজনৈতিক ফায়দাকেই তিনি বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। টানা ব্যর্থতা আর নেতৃত্বের এই সংকটই মূলত আজ দলের ভেতরকার পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে বিদ্রোহে রূপ দিয়েছে।
এদিকে দলের এই বিশাল ভাঙনে ক্ষুব্ধ পালানিস্বামী শিবির। দলের পক্ষ থেকে এক সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় বিদ্রোহী নেতাদের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়েছে, তারা ক্ষমতার লোভে এবং মন্ত্রী পদের আশায় বিজয়ের কাছে ‘ভিক্ষা’ চেয়েছেন। দলের প্রতীকে জিতে যারা বিরোধী পক্ষকে ভোট দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
কেএএ/