দল ছাড়তে চাওয়াদের নিয়ে যা বললেন মমতা ব্যানার্জী
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) বড় ধাক্কা খাওয়ার পর দলীয় প্রধান মমতা ব্যানার্জী নির্বাচনে লড়া প্রার্থীদের সংগঠন পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, যারা দল ছাড়তে চান, তারা যেতে পারেন।
কলকাতার কালীঘাটে নিজের বাসভবনে টিএমসির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীও উপস্থিত ছিলেন।
মমতা বলেন, যারা অন্য দলে চলে যাচ্ছে, যেতে দাও। আমি আবার নতুন করে দল গড়ে তুলবো। যারা আছো, তাদের বলছি ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় কার্যালয়গুলো মেরামত করো, রং করো এবং আবার খুলে দাও। প্রয়োজন হলে আমিও রং করবো। তৃণমূল কংগ্রেস কখনও মাথা নত করবে না। মানুষের রায় ছিনতাই করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর টিএমসি ক্ষমতাসীন দল থেকে বিরোধী দলে পরিণত হয়েছে। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় দলটি মাত্র ৮০টি আসনে জয় পেয়েছে।
মমতা ব্যানার্জী নিজেও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঘাঁটি ভাবানীপুর আসনে পরাজিত হয়েছেন।
টিএমসি ২৯১টি আসনে প্রার্থী দেয় এবং দার্জিলিং পাহাড়ি এলাকার তিনটি আসন মিত্র দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (বিজিপিএম)-এর জন্য ছেড়ে দেয়। এই ২৯১ প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৮০ জন জয়ী হয়েছেন। বাকি ২১১ জন হেরেছেন, যাদের মধ্যে অনেক প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রীও রয়েছেন।
নির্বাচনী ভরাডুবির পর দলত্যাগের জল্পনা ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের মধ্যেই এই বৈঠক ডাকা হয়।
ফল ঘোষণার পরদিন ৫ মে সংবাদ সম্মেলনেও মমতা একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, আমি জানি অনেকেই অন্য দলে চলে যাবে। তাদের হয়তো নিজস্ব বাধ্যবাধকতা আছে। এ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। যে যেতে চায়, যেতে পারে। কাউকে জোর করে ধরে রাখায় আমি বিশ্বাস করি না।
পরে টিএমসির অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে বৈঠকের ছবি পোস্ট করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের প্রশংসা করা হয়।
পোস্টে বলা হয়, আজ আমাদের চেয়ারপারসন মমতা ব্যানার্জী এবং জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী কালীঘাটে আমাদের প্রার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। অকল্পনীয় নির্যাতন ও লাগাতার ভয়ভীতির মধ্যেও তারা অসাধারণ সাহস নিয়ে লড়াই করেছেন।
পোস্টে আরও বলা হয়, তৃণমূল কংগ্রেস একটি পরিবার হিসেবে ঐক্যবদ্ধ। যারা মানুষের রায় লুট করেছে, তাদের সামনে আমরা কখনও মাথা নত করবো না। সত্যের জয় হবেই।
এছাড়া দলটি আবারও অভিযোগ করেছে যে নির্বাচনের ফল চুরি করা হয়েছে— যে অভিযোগ ফল ঘোষণার পর থেকেই টিএমসি নেতারা করে আসছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, কঠিন সময়ের মধ্যে প্রার্থীদের মনোবল বাড়ানো এবং ঐক্যের বার্তা দিতেই মমতা এই বৈঠক করেছেন।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএসএম