নাইজেরিয়ায় তিন স্কুল থেকে অর্ধশতাধিক শিশুকে অপহরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪০ পিএম, ১৭ মে ২০২৬
বোর্নো রাজ্যের রাজধানী মাইদুগুরিতে নাইজেরীয় সৈন্যদের টহল/ ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ তারিখে তোলা ছবি/ এএফপি

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বোর্নো অঙ্গরাজ্যের একটি শহরে তিনটি স্কুলে হামলা চালিয়ে ৫০ জনের বেশি শিশুকে অপহরণ করেছে বন্দুকধারীরা। নিখোঁজ শিশুদের অধিকাংশের বয়স দুই থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

শুক্রবার (১৫ মে) সকালে বোর্নো অঙ্গরাজ্যের মুসা শহরে হামলার ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। ফলে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে পারেনি।

এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

সরকারি কর্মকর্তারা বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেননি। তবে শনিবার (১৬ মে) বোর্নো সাউথের সিনেটর আলি এনডুমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্তত ৪২ শিশুকে দুটি স্কুল থেকে অপহরণ করা হয়েছে।

অপহরণের ঘটনাগুলো ঘটেছে গভর্নমেন্ট ডে সেকেন্ডারি স্কুল, মুসা সেন্ট্রাল প্রাইমারি স্কুল ও স্টেট ইউনিভার্সাল বেসিস এডুকেশন বোর্ড (এসইউবিইবি) সেকেন্ডারি স্কুলে।

কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার ধরন থেকে এটি জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের কাজ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী ‘ইসলামিক স্টেট পশ্চিম আফ্রিকা প্রদেশের’ (আইসওয়াপ) সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছে বোকো হারাম।

বর্তমানে নাইজেরিয়া বিভিন্ন গোষ্ঠীর সংঘটিত গণঅপহরণের ঘটনায় মারাত্মক সংকটের মুখে রয়েছে।

বোর্নো অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা বহু বছর ধরেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নতুন এই হামলার পর মুসা শহরের অনেক বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে পালাতে শুরু করেছেন।

তবে সন্তান হারানো আতঙ্কিত অভিভাবকরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, সন্তানদের খোঁজে উৎকণ্ঠার মধ্যে অপেক্ষা করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।

নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, বন্দুকধারীরা তাদের ছয় বছর বয়সী মেয়েকে তুলে নেওয়ার পর তার স্ত্রী ভেঙে পড়েছেন।

মুসা সেন্ট্রাল প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদু ডুনামা জানান, প্রথমে গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপর সশস্ত্র লোকজন স্কুলে ঢুকে শিশুদের জড়ো করতে শুরু করে।

তিনি বলেন, হামলাকারীরা শ্রেণিকক্ষ থেকে ৩৪টি শিশুকে তুলে নিয়ে যান। তাদের অধিকাংশই পাঁচ বছর বা তার কম বয়সী নার্সারির শিক্ষার্থী।

স্থানীয়দের ভাষ্য, টহলরত সেনারা শহর ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই মোটরসাইকেলে করে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা স্কুলগুলোতে আসেন। অপহৃত এক শিশুর বাবা বুকার বুবা বলেন, সেনারা চলে যাওয়ার ৩০ মিনিটও হয়নি, এর মধ্যেই তারা উপস্থিত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। এতে বাসিন্দারা আশ্রয়ের খোঁজে দৌড়াতে শুরু করেন। অনেক অভিভাবক কাছের একটি পাহাড় থেকে অসহায়ের মতো দেখেছেন, কীভাবে তাদের সন্তানদের মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, হামলার বিশৃঙ্খলার মধ্যে কিছু বড় শিক্ষার্থী পাশের ঝোপঝাড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

মূলত কৃষিনির্ভর এই দরিদ্র জনপদ এখন সরকারের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়েছে, যাতে শিশুদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যায়।

প্রধান শিক্ষক আবদু দুনামা বলেন, তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বর্তমানে সেনারা এলাকায় অবস্থান করছে ও অপহরণকারীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে শনিবার (১৬ মে) প্রকাশিত এক হালনাগাদ তথ্যে বিবিসি জানিয়েছে, আগে ভুলবশত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক বিদ্যালয় বলা হয়েছিল। পরে সেটির সঠিক নাম সংশোধন করে স্টেট ইউনিভার্সাল বেসিস এডুকেশন বোর্ড সেকেন্ডারি স্কুল উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।