ভারতে বাঘের বদলে জাতীয় পশু হচ্ছে সিংহ!
বাঘের বদলে সিংহ। ৪৩ বছর পর ভারতের জাতীয় পশু নিয়ে এমনটাই ভাবা হচ্ছে। রাজ্যসভার সাংসদ পরিমল নাথওয়ানি সম্প্রতি এই প্রস্তাব করেন। পরে ন্যাশনাল বোর্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ (NBWL) পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাছে এটি পাঠানো হয়। এছাড়া গত মার্চে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর একটি সভায় এ বিষয়ে আলোচনাও করেন। তবে তিনি জানান, এমন কোনও প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়নি।
১৯৭২ সালে বাঘকে ভারতের জাতীয় পশু হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। হঠাৎ কেন ৪৩ বছর পর বাঘেকে সরিয়ে সিংহকে বসানো হচ্ছে -এমন প্রশ্নের যুক্তি হিসাবে উঠে এসেছে দুটি বক্তব্য।
এক, সিংহ ভারতের একটি মাত্র রাজ্য গুজরাতের গির অরণ্যে পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে হেতু গুজরাতের বাসিন্দা, তাই এমন প্রস্তাব।
দুই, বাঘকে জাতীয় পশুর পদ থেকে বাদ দিলে অভয়ারণ্য গুলির কাছেই ফাঁকা জমিতে শিল্প তালুক গড়ে ওঠার ঝুরি ঝুরি প্রস্তাব আসবে। তাতে অবশ্যই বাঘদের জীবন বিপন্ন হয়ে উঠবে তা বলাই বাহুল্য।
এদিকে এমন প্রস্তাব অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগেও নাথওয়ানি ২০১২-তে একই প্রস্তাব এনেছিলেন। তা এক কথায় নাকচ করে দেন তৎকালীন পরিবেশমন্ত্রী জয়ন্তী নটরাজন। কারণ হিসাবে তিনি জানিয়েছিলেন, বাঘ দেশের ১৭টি রাজ্য পাওয়ায় যায়। সেখানে সিংহ মাত্র একটি রাজ্যেই রয়েছে। উপরন্তু সংখ্যার দিক থেকেও বাঘ সিংহের তুলনায় অনেকটাই বেশি রয়েছে।
এই একই কথা NBWL-এর অন্যান্য সদস্যদের মুখেও শোনা গিয়েছে। প্রত্যেকেই এই প্রস্তাবের বিরোধিতাই করেছেন। তাজমহলের পর বাঘ দেখতেই সব থেকে বেশি বিদেশি পর্যটক ভারতে আসেন।
পরিবেশপ্রেমীদের আশঙ্কা, এমনিতেই চোরা শিকারিদের দাপটে বাঘের সংখ্যা মাঝে ভয়ানক হারে কমে গিয়েছিল। যদি জাতীয় পশুর তকমা কোনও কারণে কেড়ে নেওয়া হয়, তবে সেই সংখ্যা আবারও কমবে। শুধু কমবেই না, বাঘ ভারতের মাটি থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে।
আরএস/আরআই