দুই প্লেটের ফাঁক বাড়ায় কেঁপে উঠল নেপাল
হিমালয়ের ভাঙা গড়া চলছেই। তারই ফল হিসেবে শনিবার ভূমিকম্প হল নেপাল-সহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে। নেপালের পোখরায় মাটি থেকে ১০ কিলোমিটার নিচে ছিল ভূমিকম্পের উৎসস্থল। সেখানে ভূমিকম্পের তীব্রতা রিখটার স্কেলে ছিল ৭ দশমিক ৯। পরপর দু’বার এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, এত তীব্রতা হতে মাটি বা সমুদ্র থেকে কম পক্ষে ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার নিচে উৎসস্থল হতে হয়।
জানা গেছে, পোখরার এই অঞ্চলে ইন্ডিয়ান প্লেট ও এশিয়ান প্লেট সক্রিয় রয়েছে। এই দুটিই স্থলভাগের প্লেট। এর মধ্যে ভারতের প্লেটটি এশিয়ান প্লেটের নিচেই থাকে। কিন্তু তার মধ্যে ব্যবধান বেশি হওয়ার জন্যই এই ভূমিকম্প হয়েছে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবনের ভূকম্পন বিভাগ।
ভূতত্ত্ববিদরা আরও বলছেন, এই প্লেটের চলন সবসময়ই অব্যাহত থাকে এবং তা থেকেই তৈরি হয় চ্যুতি। নির্দিষ্ট সময়ে পরপর শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তার জেরেই ভূমিকম্পের মতো ঘটনা ঘটতে থাকে। এই উৎসস্থলকে পরিভাষায় বলা হয় ‘ফোকাস’। নির্দিষ্ট সময় পরপর এই ভূমিকম্প হওয়ার ব্যাপারটিকে বলা হয়, ‘ইলাস্টিক রিবাউন্ড থিওরি’।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক তাপস ভট্টাচার্য বলেছেন, প্রায় ৫৫ লাখ বছর ধরে ভারত খুব ধীরে উত্তর দিকে এগোচ্ছে। এখনও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। একটা হিসেবে দেখা যায় প্রতি বছর গড়ে ৪ সেন্টিমিটার উত্তর দিকে এগিয়ে যায়। এরই ফলে ইন্ডিয়ান প্লেটের কিছু অংশ এশিয়ান প্লেটের নিচের দিকে চলে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত তাদের মধ্যে সংঘর্ষও হচ্ছে।
ক্যালকাটা ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের ভূতত্ত্বের সহকারী অধ্যাপক ঋদ্ধ চৌধুরী জানিয়েছেন, মাটির মাত্র ১০ কিলোমিটার নিচে উৎসস্থল হওয়া সত্ত্বেও কী করে এই ঘটনা ঘটল তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এই ভূমিকম্পের আরও একটি বৈশিষ্ট্য হল বেশি সময় ধরে চলা।
আরএস/আরআই