২০০ ফুট উপর থেকে পড়েও বেঁচে আছেন যে যুগল
বাড়িতে জানিয়েছিল বন্ধুদের সঙ্গে সিনেমা দেখতে যাবেন। এই বলে ১৭ বছরের কিশোরী রামিলা শ্রেষ্ঠা চলে গিয়েছিল প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে। কাঠমান্ডুর ধারাহারা টাওয়ারে। রামিলা ভেবেছিল বাড়িতে ফাঁকি দিয়ে শনিবারের দুপুরটা কাটাবে মনের মানুষ সঞ্জীবের সঙ্গে। কিন্তু পশুপতিনাথের মনে বোধ হয় অন্যকিছু ভাবনা ছিল।
সেটা বোঝা গেল যখন‚ রামিলা‚ সঞ্জীবের হাত ধরে প্যাঁচানো সিঁড়ি বেয়ে সবে পা রেখেছেন ধরহরা টাওয়ারের নয় তলার অলিন্দে। বলা হতো‚ এখান থেকেই সবথেকে সুন্দরী লাগে কাঠমান্ডুকে। সপ্তদশ শতকে নেপালের রানির জন্যই বানানো হয়েছিল এই স্থাপত্য।
নিজেকে রানি ভেবেই অলিন্দ থেকে বাইরে তাকিয়েছিল রামিলা। পাশে সঞ্জীব। আচমকা দুলতে শুরু করে পৃথিবী। নাগরদোলার মতো দুলতে থাকেন রামিলা-সঞ্জীব। মুহূর্তের মধ্যে ২০০ ফিট উচ্চতা থেকে জমিতে ছিটকে পড়লেন দুজনে। তার অনেক আগেই অবশ্য জ্ঞান হারিয়েছে দুজনে।
কাঠমান্ডুর এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাদের। জ্ঞান ফিরতেই দুজন জানতে চেয়েছেন দুজনের কথা চিকিৎসকরা জানিয়েছেন দুজনে আহত হলেও চিন্তার কিছু নেই।
কিন্তু এতো কিছুর পরে যে গোপন প্রেম জানাজানি হয়ে গেল দু বাড়িতেই? এই পরিস্থিতিতে অবশ্য কোনো পরিবারেই আপত্তি ওঠেনি। রামিলা আর সঞ্জীব রাঙা হাসিমুখে বলছে‚ এতো বড় বিপর্যয় থেকে যখন দুজনে রক্ষা পেয়েছেন‚ তখন আগামী জীবন নিশ্চয়ই সুখের হবে।
কাঠমান্ডুর ধ্বংসস্তূপে আপাতত এক ঝলক মুক্ত বাতাস অনুভব করছেন এই প্রেমিক জুটি প্রকৃতির ভাঙাগড়ার খেলায় অন্তত এদের জন্য ভবিষ্যতের পারস্পারিক আস্থার বুনিয়াদ গড়তে পেরেছে ভয়াল ভূমিকম্প।
বিএ/পিআর