নির্ভয়া ধর্ষণ ও হত্যা : ৪ ধর্ষকের ফাঁসি বহাল


প্রকাশিত: ১০:০৭ এএম, ০৫ মে ২০১৭

ভারতে চলন্ত বাসে মেডিকেল ছাত্রী নির্ভয়াকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছে আদালত। সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার এই আদেশ দেন।

রাজধানী দিল্লিতে চলন্ত বাসে ২৩ বছরের এক তরুণীকে গণধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। বিচারপতি দীপক মিশ্র, আর ভানুমতি ও অশোক ভুসানের সমন্বিত একটি বেঞ্চ শুনানির পর মুকেশ সিং, পবন গুপ্ত, বিনয় শর্মা এবং অক্ষয় ঠাকুরের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

২০১৩ সালে এই চার ধর্ষকের ফাঁসির রায় দেয় আদালত। হাইকোর্টও তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। পরে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে আসামিরা।

অভিযুক্ত একজন মামলা চলাকালে জেলে মারা যান আর অন্য এক অভিযুক্তর নাবালক বিবেচনায় তিন বছর সংশোধনকেন্দ্রে থাকার পর মুক্তি পায়।

দিল্লিতে ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে বাড়ি ফিরছিলেন ২৩ বছর বয়সী মেডিকেল শিক্ষার্থী। একটি বাসে তাকে দলগত ধর্ষণ করে ছয় ব্যক্তি। লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও শরীরের নানান অংশে তাকে জখমও করা হয়।

১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মৃত্যুর কাছে হার মানেন নির্ভয়া। ধর্ষণের এই ঘটনায় সারা দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে।

২০১২ সালের ১৬ডিসেম্বর এক বন্ধুর সঙ্গে সিনেমা দেখে বাড়ী ফেরার পথে একটি বাসে উঠেছিলেন ওই তরুণী। বাসে ধর্ষকেরা যাত্রী সেজে বসেছিলেন।

কিছুটা ফাঁকা জায়গায় বাসটি পৌঁছতেই ওই তরুণী ও তার বন্ধুকে প্রচন্ড মারধর করে ও তারপরে ছয়জনে মিলে দলগত ধর্ষণ করেন নির্ভয়াকে।

ওই মেয়েটির অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছিন্নভিন্ন করে পাষণ্ডরা। পরে নগ্ন অবস্থায় তাদের দুজনকে বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয় ও বাসচাপা দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়।

দিল্লির বিশিষ্ট চিকিৎসকদের সব রকম চেষ্টার পরে অসুস্থ অবস্থায় সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয় নির্ভয়াকে। ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

ওই ধর্ষণের বিরুদ্ধে সারা দেশে প্রতিবাদ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। এমনকি রাষ্ট্রপতি নিবাস পর্যন্তও বিক্ষোভ হয়েছিল। বিক্ষোভের মধ্যেই ধরা পড়ে অপরাধীরা। ওই ঘটনার জের ধরেই পরবর্তীতে ভারতে ধর্ষণ প্রতিরোধে কড়া আইন আনা হয়।

নির্ভয়ার বাবা-মা সংবাদমাধ্যমকে জানান, দোষীদের চরম সাজাই চান তারা। নির্ভয়ার ওপর যে অত্যাচার করা হয়েছে তাকে সুনামির মতোই ভয়াবহ আঘাত বলে অভিহিত করেন বিচারপতি। দোষীদের কোনও ভাবেই ক্ষমা করা যায় না বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেএ/টিটিএন/পিআর