ক্যামেরনের সামনে কঠিন সময়!
যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামরনের বিরাট সাফল্যকে রক্ষণশীলদের উল্লেখযোগ্য বিজয় বলে উল্লেখ করেছে দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্র। তবে পত্রপত্রিকা এও আভাস দিয়েছে, ব্রিটেনের সঙ্গে স্কটল্যান্ডকে ধরে রাখা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্তরাজ্যের থাকা না থাকার বিষয় নিয়ে তাকে যথেষ্ট বেগ পোহাতে হবে। সূত্র : বাসস
পত্রপত্রিকার সম্পাদকীয় ও মতামত কলামে সতর্কবাণী করা হয়েছে, পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও রক্ষণশীল মধ্য-ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রীকে প্রথম মেয়াদের চেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে।
ডানপন্থি লিবারেল ডেমোক্র্যাটস (লিবডেম) পার্টির সঙ্গে জোট করে আগেরবার সরকার গঠন করেছিলেন মধ্য ডানপন্থি কনজারভেটিভরা। এবার তারা নিজেরাই সরকার গঠন করতে পারবে। যুক্তরাজ্যে স্কটল্যান্ডকে রাখা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্রিটেনকে রাখা ক্যামেরনের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
সংবাদপত্রে বলা হয়েছে, পরাজয়ের পরে লেবার ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দল পুনর্গঠিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। নির্বাচনে পরাজয়ের কয়েক ঘন্টার মধ্যে দুই দলের নেতারা পদত্যাগ করেছেন।
দ্য টাইমস পত্রিকার সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের ভোটাররা দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে রায় দিয়েছে এবং স্কটল্যান্ডে এক ধরনের বিপ্লব ঘটেছে। বামপন্থি স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি) ৫৯টি স্কটিশ আসনের মধ্যে ৫৬টিতে জিতেছে। ক্যামেরনের আসল কাজ হলো স্কটল্যান্ডকে ধরে রাখা। আর এ কাজ তার জন্য খুব সহজ হবে না।
নির্বাচনে লেবার দলের সমর্থক দ্য গার্ডিয়ান বলেছে, ক্যামেরনকে অবশ্যই এখন দলের আগে দেশকে স্থান দিতে হবে। তিনি প্রথম মেয়াদে যা দেখিয়েছেন তার চেয়ে এখন আরো বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে। ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে এবং লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।
দ্য ইনডিপেনডেন্ট বলছে, নির্বাচনে ক্যামেরনের কনজারভেটিভ দলের নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্য দিয়ে অদ্ভুতভাবে লিবারেলদের মৃত্যু হয়েছে। পতনের মুখে পড়েছে লিবডেম দলও। পত্রিকাটি বলছে, লেবার ও লিবডেম দলের মধ্যে সত্যিকারের জোট গঠনে এখনই চিন্তা-ভাবনার সময় এসেছে।
তবে নির্বাচনে কনজারভেটিভ দলকে সমর্থন দেয়া পত্রিকাগুলো ক্যামেরনকে অভিনন্দন জানাতে ব্যস্ত ছিল।
বিএ/আরআইপি