ভূমিকম্প আতঙ্কে নেপাল ছাড়ার চিন্তায় বাসিন্দারা
বীভৎস পঁচিশে এপ্রিলের আতঙ্ক কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছিল কাঠমান্ডুসহ পুরো নেপাল। ভাঙা বাড়িগুলোর মাঝে টিকে থাকা অফিসগুলোতে যোগ দিতে শুরু করেছিলেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের প্রতীক্ষা না করে নিজেরাই হাত লাগিয়েছিলেন বাড়ি তৈরিতে।
তবে মঙ্গলবার ১২টা ৩৬ মিনিটের কম্পন জাগিয়ে তুলেছে তাদের ত্রাসের স্মৃতি। পুনর্গঠন প্রচেষ্টার মাঝেই আবারো আতঙ্ক ফিরে এলো কাঠমান্ডুর রাস্তায়। এবার ভূমিকম্পের কেন্দ্র চীন সীমান্ত লাগোয়া উত্তর নেপালের ছাম উপত্যকা। লাগাতার এ কম্পনের আতঙ্কে দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন নেপালবাসীরা।
যদিও ২৫ এপ্রিলের পর থেকে মাটির দুলে ওঠাটা স্বাভাবিক মনে হতো নেপালিদের কাছে। কাঁপুনি গা সওয়া হয়ে গিয়েছিল সকলের। তাই মঙ্গলবার সাড়ে ১২টা নাগাদ কাঁপুনি শুরু হলে বিশেষ গুরুত্ব দেননি কেউই। কিন্তু, কম্পনের প্রাবল্যে ফিরে আসে ত্রাস। আতঙ্কের জেরে অনেকেই বলে ওঠেন, `ইসবার অউর নেহি বাঁচেঙ্গে (এবার আর বাঁচবো না)।`
কলকাতার সল্টলেকের বাসিন্দা গৌতম পালচৌধুরী পেশাগত কাজে কাঠমান্ডুতে এসেছেন। ভূকম্পের সময় শহরেরই এক অফিসের চারতলায় বসেছিলেন তিনি। কাঠমান্ডুর রাস্তায় দাঁড়িয়ে গৌতম বলেন, `বাড়িটা তালগাছের মতো দুলতে শুরু করেছিল।`
কম্পন বাড়তেই কিছুক্ষণ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন অফিস, শপিং মল ও মন্দিরে থাকা মানুষজন। গতবার রাস্তায় বেরিয়েও বাড়িচাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। সেই কথা মনে রেখে প্রথমটায় বাড়ির বাইরে বেরোতে ইতস্তত করছিলেন মানুষ। কম্পনের মাত্রা বাড়লে মৃত্যুভয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই রাস্তায় এসে নামেন অসংখ্য মানুষ।
পরের এক ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে একের পর এক ১২টা আফটার শক। কাঠমান্ডু থেকে ১০৭ কিমি দূরের সিন্ধুপালচকের অধিকাংশ মাটির বাড়িই গুঁড়িয়ে গিয়েছিল ২৫ তারিখের ভূমিকম্প। প্রশাসনের অপেক্ষা না করে গ্রামবাসীরা নিজেরাই হাত লাগিয়েছিলেন মাটির বাড়ি তৈরিতে। মঙ্গলবার তাদের সেই প্রচেষ্টাও ধূলিস্মাৎ হয়ে যায়।
একই অবস্থা কাঠমান্ডু থেকে ৩০ কিমি দূরের উপত্যকার গ্রাম তিনঘড়েরও। গ্রামের গণেশ বাহাদুর জানান, `এভাবে চললে বাঁচব কীভাবে? নেপাল ছেড়ে চলে যেতে হবে।` প্রায় একই সুর সিন্ধুপালচকের রানি তামাংয়ের গলাতেও। শুধু পাহাড়ি নেপালই নয়, অবস্থা কম বেশি একই কাঠমান্ডু থেকে ভক্তপুর সর্বত্র।
গতবারের কম্পনের ধকল কাঠমান্ডু শহরের যে বাড়িগুলো সয়ে নিয়েছিল, সেগুলোতে ধরেছে বড় বড় ফাটল। আর যেগুলো আংশিক ভেঙেছিল, সেগুলো মাটিতে মিশে গেছে। তাই নেপালিদের আতঙ্ক এখন বেড়ে গেছে বহুগুণ।
এসএইচএস/বিএ/আরআই